আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ফ্রান্সের ভোটাররা ঠিক করবেন পরবর্তী পাঁচ বছর তাদের নেতৃত্ব দেবেন কে, ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ না অভিবাসন-বিরোধী কট্টর-ডানপন্থি মারিন লো পেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটে এগিয়ে থাকা এই দুই প্রার্থী রোববারের রানঅফ ভোটে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এই দুজনের মধ্যে একজন হতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।

রানঅফ ভোটের সবগুলো নির্বাচনী জরিপ বলছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফরাসি ভোটাররা ৩৯ বছর বয়সী ম্যাক্রোঁকেই বেছে নেবেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী ম্যাক্রোঁ দেশের বাম-ডান বিভাজনের মধ্যে সেতুবন্ধ হতে চান, দেশজুড়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান-বিরোধীতার হুজুগ থামাতে চান; যে হুজুগে মার্কিনিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং ব্রিটিশরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগ করেছে।

কিন্তু অপ্রত্যাশীতভাবে ন্যাশনাল ফ্রন্ট প্রার্থী লো পেন জয়ী হলে ইইউর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবেই পতনের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে।

শেষ জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, জনসমর্থনে লো পেনের চেয়ে প্রায় ২৩ থেকে ২৬ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ম্যাক্রোঁ।

গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটেও জনমত জরিপের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে, ওই পর্বে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা প্রার্থী ম্যাক্রোঁই পেয়েছেন সর্বাধিক ভোট।

বুধবার দুই প্রার্থীর শেষ নির্বাচনী বিতর্কে দুজনের মধ্যে তীব্র, তিক্ত বাকযুদ্ধ হয়; এরপর জনমত জরিপে লো পেনকে আরো ছাড়িয়ে যান ম্যাক্রোঁ। জনমত জরিপে ম্যাক্রোঁ এগিয়ে থাকায় শেয়ার মার্কেটেও চাঙ্গা ভাব দেখা যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম ইউরোপে কট্টর-ডানপন্থিদের মধ্যে লো পেনই প্রথম ব্যক্তি যিনি একটি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্যতম ফেভারিট প্রার্থী হতে পেরেছেন। উগ্রপন্থি এই প্রার্থী ইইউর একক মুদ্রা ইউরো ত্যাগ করতে চান, সীমান্ত বন্ধ করে অভিবাসীদের আগমন বন্ধ করে দিতে চান।

জনমত জরিপ সত্যি হলে এবং ফরাসিরা প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের বদলে সবচেয়ে তরুণ প্রেসিডেন্টকে বেছে নিলে তার মেয়াদে কোনো ‘হানিমুন পিরিয়ড’ থাকবে না বলে জানিয়েছে ম্যাক্রোঁ।

ম্যাক্রোঁর সব কর্মসূচীর সঙ্গে সবাই একমত না হলেও প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন তারা লো পেনকে ঠেকাতে ম্যাক্রোঁকেই ভোট দিবেন। তারপরও কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতির হার কম হবে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য