ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কবল থেকে ইরাকের মসুল শহর পুনরুদ্ধারে ইরাকি বাহিনীর অভিযানের মুখে তীব্র যুদ্ধের কারণে শহরটির পশ্চিমাংশ ছেড়ে পালানো বাসিন্দারা বন্যার বাধার মুখে পড়ছেন।

কাপড় ও খাবারদাবার থেকে শুরু করে আহত ও মৃত স্বজনদের লাশসহ সবকিছু নিয়ে মসুল ছেড়ে পালাচ্ছে শত শত পরিবার। কিন্তু তাইগ্রিস নদীতে দেখা দেওয়া বন্যার কারণে সামরিক বাহিনী মসুলের দুইপাশকে যুক্ত করা শেষ পল্টুন সেতুটি খুলে ফেলায় নতুন বিপদের মুখে পড়েছে তারা।

যুদ্ধের ঝুঁকি থেকে পালিয়ে এসে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন লোক ধারণ করতে পারে এমন ছোট ও দুর্বল মাছ ধরার নৌকায় করে নদী পার হতে বাধ্য হয়ে নতুন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে তারা।

পশ্চিম মসুল থেকে পালিয়ে আসা এক লোক তার নিহত স্ত্রীর মৃতদেহ একটি আবরণে মুড়ে ছোট একটি নৌকায় তুলে নৌকাটি ধরে রাখেন, আর অপর এক লোক তার তিন সন্তানকে সাবধানে নৌকায় তুলে নেয়। দুই কিশোরী ও এক বালক ওই ভাইবোন নৌকাটির ভারসাম্য যেন নষ্ট না হয় এমন সতর্ক হয়ে বসেছিল।

তারা নদীর পূর্বপাড়ে যাচ্ছে মাকে কবর দিবে বলে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মদতপুষ্ট ইরাকি বাহিনী আইএসের কবল থেকে পশ্চিম মসুলের মুশরেফা এলাকাটি পুনরুদ্ধার করে। এই এলাকার অনেক বাসিন্দাই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ পূর্ব মসুলে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

এদের একজন ৪৫ বছর বয়সী মুশারেফ মোহাম্মদ বলেন, “আমরা আইএসের অবিচারের মধ্য দিয়ে গেছি, এখন আমাদের মুক্ত বলা হচ্ছে আর নদীতে পাঁচটি সেতু থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

“কিন্তু সেতুগুলো কোথায়? আমরা দুইদিন ধরে অপেক্ষা করছি।”

তার অনেক প্রতিবেশী ও স্বজন নিহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা মুক্ত, কিন্তু আমরা সুখি না, কারণ অনেক ঘনিষ্ঠ লোকজনকে হারিয়েছি আমরা।”

বন্যার কারণে তাইগ্রিস নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরের অনেক নদী পারাপারের ঘাট ভেসে গেছে এবং সামরিক বাহিনী বাধ্য হয়েছে অস্থায়ীভাবে তৈরি সেতুগুলো খুলে নিতে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে সেনাবাহিনীও বেসামরিক মালামাল নেওয়ার জন্যও ওইসব ছোট ছোট নৌকা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

পল্টুন সেতু খুলে ফেলার সময় সেনাবাহিনী নদী পারাপারের জন্য একটি স্টিমবোট আনার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু গ্যাসের অভাবে সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য