জম্মু-কাশ্মিরে বিনা অনুমতিতে চলা পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ বেশ কিছু টিভি চ্যানেল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জম্মু–কাশ্মিরের কেবল নেটওয়ার্কে কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই পাকিস্তান ও সৌদি আরবের একাধিক চ্যানেল প্রদর্শন করা হচ্ছে। সে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে তিনি ওই বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি অবিলম্বে ওইসব বিদেশি চ্যানেলের বেআইনি সম্প্রচার বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়,  নির্দেশ মানা হল কী না, যত দ্রুত সম্ভব  তার রিপোর্টও চেয়েছেন বেঙ্কাইয়া নাইডু।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার দফতরের প্রতিমন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাঠোর বলেন, নিয়ম ভেঙে বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কেবল অপারেটরদের যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রয়েছে রাজ্য সরকারের। কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাঠিয়েছে বলে তিনি বলেন।

রাঠোর বলেন, ‘যদি কোথাও অনুমতি ছাড়া পাকিস্তান, সৌদি আরব কিংবা অন্য কোনো নিষিদ্ধ চ্যানেল প্রচার করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কেবল অপারেটরের যন্ত্রপাতিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

কাশ্মিরে সৌদি আরব এবং পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল উসকানি দিচ্ছে এবং এ সবের মাধ্যমে ভারত বিরোধী প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এখানে প্রাইভেট কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের ৫০ টির বেশি চ্যানেল দেখানো হয়। ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েকের পিস টিভিও এখানে সম্প্রচার হয়। কেবলমাত্র শ্রীনগরেই ৫০ হাজারের বেশি কেবল সংযোগ আছে।

এখানে সৌদি সুন্নাহ, সৌদি কুরআন, আল আরাবিয়া, পয়গাম, হিদায়ত, নূর, মাদানী, কারবালা, সহর, আহলি বাত, ফলক, জিও নিউজ, ডন নিউজ ইত্যাদি চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে, ‘দক্ষিণ কাশ্মিরের পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক বলে গতকাল শুক্রবার সিআরপিএফের এক কর্মকর্তা বলেছেন। এক বিবৃতিতে সিআরপিএফের আইজি রবিদীপ শাহী বলেন, ‘এখানে সন্ত্রাসী কাজকর্ম বেড়ে চলেছে। স্থানীয়রাও তাদের বিপুল ভাবে সাহায্য করছে এবং সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিচ্ছে। সে কথা মাথায় রেখে ওই এলাকায় সন্ত্রাস দমন অভিযান বাড়ানো হয়েছে, যা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং।’

এদিকে, গেরিলারা পুলওয়ামার দখল নিতে পারে বলে পুলিশের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেক্ষেত্রে দেশের অন্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে  বলে তারা মনে করছেন।

কামরাইপোরা, করিমাবাদ, সাম্বুরা, লেলহার, তাহাব, আগলার, লিটার, বামনু এবং কোলি এলাকায় পুলিশে বা নিরাপত্তাবাহিনীর কার্যত ‘নো এন্ট্রি’ চলছে। এ সব এলাকায় ঢুকতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীকে আগে রুট মার্চ করে আধিপত্য বিস্তার করতে হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সন্ত্রাসদমন অভিযানে নেমে নিরাপত্তা বাহিনীকে যে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে তা হাড়ে হাড়ে সংশ্লিষ্টরা টের পাচ্ছেন।

এদিকে, আজ জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে হয়েছেন। তিনি মোদির পাক সফরকে সাহসী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন।

মেহেবুবা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘একমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদিই আমাদের অশান্তি থেকে বের করে আনতে পারেন। তিনি যে সিদ্ধান্তই নেবেন, গোটা দেশ তা সমর্থন করবে।’

তিনি বলেন, আগের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান যেতে চাইতেন কিন্তু তার সাহসে কুলাতো না। মোদি লাহোরে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন। এতেই ওর ক্ষমতা বোঝা যায়।

কিছুদিন আগে কাশ্মিরে চলমান অশান্তি বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন মেহবুবা। সেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি কাশ্মিরে বুলেট ও পাথরের মধ্যে আলোচনা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন। ওই বিবৃতি দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এবার তার মুখে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করার কথা শোনা গেল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য