জম্মু-কাশ্মিরে গেরিলা হামলায় এক পুলিশসহ চারজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক লস্কর-ই তৈয়েবা সদস্য এবং দু’জন বেসামরিক ব্যক্তিও রয়েছেন। শনিবার রাত দশটা নাগাদ গেরিলা ও পুলিশ কর্মীদের মধ্যে আচমকা বন্দুকযুদ্ধে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অনন্তনাগ জেলার মীরবাজার এলাকায় পুলিশের কনভয়ের ওপরে গেরিলারা আচমকা গুলিবর্ষণ করলে এক পুলিশকর্মী নিহত হয়। পুলিশের পাল্টা গুলিতে ফৈয়াজ আহমেদ আশওয়ার ওরফে সেঠা নামে এক লস্কর সদস্য নিহত হয়। একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর পুলিশ যখন যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করছিল সেসময় গেরিলারা পুলিশ দলের ওপরে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। তারা গড়িতে করে ঘটনাস্থলে আসে।

পুলিশের দাবি, নিহত সন্ত্রাসী ফৈয়াজ আহমেদ ২০১৫ সালের আগস্টে উধমপুর বিএসএফের কনভয়ের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিল। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল ফৈয়াজ। রাজ্যসরকার তার মাথার দাম দু’লাখ টাকা ঘোষণা করেছিল। উধমপুর নাশকতায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র দেওয়া চার্জশিটেও তার নাম ছিল।

জম্মু-কাশ্মির পুলিশের মহানির্দেশক এস পি বেদ বলেন, ‘হামলাকারীরা সংখ্যায় ছিল তিনজন। পুলিশের পাল্টা হামলায় এক সন্ত্রাসী নিহত ও একজন আহত হয়েছে। এছাড়া এক পুলিশকর্মী ও দুই বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে পুলিশ একটি পিস্তল ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হলেও অন্য সন্ত্রাসী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ওই সন্ত্রাসীর সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’

এর আগে গত ১ মে কুলগামে জম্মু-কাশ্মির ব্যাংকের টাকা ভর্তি একটি গাড়িতে গেরিলারা হামলা চালালে সেসময় পাঁচ পুলিশ এবং দুই ব্যাংক কর্মচারি নিহত হয়। গেরিলারা সেসময় গুলি, ম্যাগজিনসহ ৫ টি এসএলআর নিয়ে যেতেও সক্ষম হয়।

এদিকে, গেরিলা হানার আশঙ্কায় কাশ্মিরের পুলওয়ামা ও সোপিয়ান জেলায় নগদ লেনদেন বন্ধ করছে ৪০টি ব্যাংক। সম্প্রতি পরপর বেশ কয়েকটি ব্যাংকে গেরিলা হামলার পর নিরাপত্তাসংস্থাগুলো কাশ্মিরে সতর্কতা বার্তা জারি করে। গোয়েন্দা এজেন্সির আশঙ্কা, টাকা লুট করতে ব্যাংকগুলোকে সন্ত্রাসীরা টার্গেট করতে পারে।

এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, গেরিলারা গত ৬ মাসে ১৩ টি ব্যাংক থেকে ৯২ লাখ টাকা লুট করেছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনীর কাছ থেকে দুই ডজনেরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য