রজব আলী, ফুলবাড়ী থেকেঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নের্তৃত্বকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী পরিষোদ। নিয়মিত কমিটির সভাপতি-সম্পাদককে বাদ দিয়ে সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক সভাপতির নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে আহবায়ক কমিটি। এখন আহবায়ক কমিটি ও  নিয়মিত নির্বাহী কমিটি শ্রমিক ইউনিয়নের কর্তৃত্ব নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে, এতে যে কোন সময় উভায পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লাগার আশঙ্কা করছেন সাধারন শ্রমিকগণ। তবে এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি খনি প্রসাশন।

এদিকে শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করতে গিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি, গত ১মে শ্রমিক দিবসের কর্মসুচি পালন করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, এই কারনে সকাল থেকে সিবিএ কার্য্যলয় অতিরিক্ত পুলিশ মোয়েন করা হয়, অবশেষে পুলিশি পাহারায়, প্রতিকি কর্মসুচির মধ্যে দিয়ে শেষ করা হয় মে দিবসের কর্মসুচি। সুধু মে দিবসের কর্মসুচিই নয়, এর পুর্বে জাতীয় দিবসের কর্মসুচিতেও একই ঘটনা ঘটে। এতে করে অচল হয়ে পড়েছে সিবিএর কার্য্যক্রম।

এদিকে মুল কমিটিকে বাদ দিয়ে কয়েকজনকে নিয়ে গঠিত আহবায়ক কমিটিকে মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে খনি প্রসাশনের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার সত্বে যায়যায়দিনকে কয়েক জন শ্রমিক বলেন, খনির প্রসাশন বিভাগের একজন ম্যানেজার আহবায়ক কমিটিকে সরসরি প্রসাশনিক  সহযোগীতা করায় মুল কমিটি কাজ করতে পারছেনা। এতে শ্রমিক ইউনিয়নের কাজ কর্ম অচল হয়ে পড়েছে।

শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও নব গঠিত আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম যায়যায়দিকে বলেন গত ২০১৩ সালের তিন মার্চ ইউনিয়নের সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, নিয়মানুযায়ী দু, বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০১৫ সালে আবারো নির্বাচন হওয়ার কথা, কিন্তু অধ্যবধি কোন নির্বাচন হয়নি তাই মেয়াদ উর্ত্তিন্ন কমিটির আদেশ কেউ মানতে চায়না, এই জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের ২৪ জন সাধারন শ্রমিকের মতামত নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই বিষয়ে বড়পুকুরিয়া শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় কয়েকবার চেষ্ঠা করেও নির্বাচন করা সম্ভাব হয়নি। তিনি আরো বলেন গত ২০১৩ সালের অনুষ্ঠিত সাধারন নির্বাচনে ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৫ জন, গঠন তন্ত্র অনুযায়ী পাচঁটি পদে নির্বাচন হওয়ার কথা কিন্তু  তৎকালিন সভাপতি দুলার মিয়া নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে আটটি পদে নির্বাচন দেয়। যা পরবর্তিতে শ্রম অধিদপ্তর নির্বাহী পরিষোদের সিনিয়র সহসভাপতি,সাংগঠনিক সম্পাদক ও কার্য্যকরি সদস্য পদ বাতিল করার আদেশ দেন। এই কারনে সকল সদস্যদের মতামত নিয়ে তৃতীয় পক্ষের অধিন কর্মরত ৩২ জন শ্রমিককে নিবিএর সদস্য করা হয়। এই কারনে শ্রম অধিদপ্তর সিবিএর উপর ১৬৮/২০১৪ নং একটি মামলা দায়ের করেন, যে মামলাটি দির্ঘদিন পর শ্রমিক ইউনিয়ন এর পক্ষে আদেশ হয়, এর পর রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি পুনরায় আপিল করায় এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধিন আছে। তিনি আরো বলেন বর্তমান কমিটি চলতি সনের গত পাচঁ মার্চ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন ঘোষনা করেন, কিন্তু উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় নির্বাচন কমিশন নির্বানটি অনুষ্ঠিত করতে পারেনি। এই জন্য নির্বাচন হযনি। সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মহিউদ্দিন বলেন বর্তমানে সিবিএর সদস্য সংখ্যা ৬৩ জন, এর মধ্যে ২৪জন সদস্য এক জোট হয়ে একটি মনগড়া কমিটি করে সিবিএ কায্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এই জন্য তাদের বিরুদ্ধে সিবিএর শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি বলেন।

তৃতীয় পক্ষের অধিন কর্মরত কয়েক জন শ্রমিক যায়যায়দিনকে বলেন, খনিটির সুচনা লগ্ন থেকে আমরা কর্মরত আছি, সেই সময় থেখে আমাদের চাকুরি স্থায়ী করার দাবী করে আসচ্ছি, আমাদের সেই দাবীকে বন্ধ করার জন্য কয়েকজন কুচক্রি এ্ই মনগড়া আহবায়ক কমিটি করেছে, আর খনি প্রসাশনের কয়েক জন কর্মকর্তা তাদের প্রকাশ্যে মদদ দিয়ে আসচ্ছে।

এই বিষয়ে খনিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ এই সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন সংগঠনটি শ্রমিকদের, এটি তারায় দেখা শুনা করে, কিন্তু যদি কোন বিশৃংখলা সৃস্টি করে এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য