নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলররা মঙ্গলবার থেকে কলম বিরতি কর্মসূচীর পালন করছেন। কাউন্সিলরদের কমল বিরতির ফলে সেবা নিতে আসা পৌরবাসি চরম বিপাকে পড়েছেন।

দিনাজপুর পৌরসভার ৮নং কাজী কাউন্সিলর কাজী অঅকবর হোসেন অরেঞ্জকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম ও এসঅই বিপ্লব কান্তি সরদারকে থানা থেকে প্রত্যাহার এবং তাদের শাস্তির দাবীতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কাউন্সিলররা এই কলম বিরতি পালন করছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দিনাজপুর পৌরসভায় গিয়ে দেখা গেছে, কাউন্সিলররা তাদের কক্ষের বাইরে অবস্থান করে কলম বিরতি কর্মসূচী পালন করছেন। তারা কোন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন না। তাদের কলম বিরতির কারণে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সেবা নিতে আসা পৌরবাসি পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

দিনাজপুর পৌরসভায় প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের লোকজন জন্ম নিবন্ধন সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্স সনদসহ বিভিন্ন সনদ ও কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিতে শত শত শহরবাসি পৌরসভায় আসেন। কিন্তু কাউন্সিলরদের কলম বিরতির ফলে পৌরসভার যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে।

পৌরসভায় সেবা নিতে আসা শহরের ২নং ওয়ার্ডের ঘাসিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হেনা ও চাউলিয়াপট্টি এলাকার বাসিন্দা রুমা, ৪নং ওয়ার্ডের সুইহারী এলাকার বাসিন্দা দৌলতুন নেসাসহ আরো কয়েকজন পৌরবাসি জানান, আমরা জরুরী প্রয়োজনে নাগরিকত্ব সনদ নিতে পৌরসভায় এসেছিলাম। কিন্তু কাউন্সেলরদের কলম বিরতির কারণে খালি হাতে ফিরে যেতে হলো।

জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে ৮নং ওয়ার্ডের নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম, ট্রেড লাইসেন্স নিতে আসা ৯নং ওযার্ডের বাসিন্দা মাহফুজুল হক জরুরী প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধন সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স না পেয়ে ক্ষোভে বাসায় ফিরে গেছেন।

এ ব্যাপারে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌরসভার ২নং প্যানেল মেয়র রেহাতুল ইসলাম খোকা, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তফা কামাল মুক্তিবাবু জানান, কাউন্সিলরদের ২ দফা দাবী দ্রুত মেনে নিলে আমরা কলম কিরতি কর্মসুচী প্রত্যাহার করে নিবো। তারা জানান, কোন দাবী আদায় করতে হলে কিছু সমস্যা তো হবেই। পৌরবাসির বৃহত্তর স্বার্থে কিছুটা কষ্ট মেনে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল রাতে দিনাজপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জকে ফুলবাড়ী বাসস্ট্যা›ন্ড এলাকায় অবস্থতি তাঁর নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় কোতয়ালী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম, এসআই বিপ্লব কান্তি সরদারসহ একদল পুলিশ। তাঁকে থানায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে জেলে পাঠায় পুলিশ।

পরে গত ৩০ এপ্রিল দিনাজপুর পৌর পরিষদের পক্ষে পৌরসভার কাউন্সিলররা সংবাদ সম্মেলনে অরেঞ্জের মুক্তি দাবী করে ৩ দফা কর্মসূচী ঘোষণা করে। অবশ্য ৩০ এপ্রিল দুপুরে কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জ আদালত থেকে জানিনে মুক্তি পান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য