দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সিস্টেম থাড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী পদ্ধতিটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আরো কয়েক মাস লাগলেও এটি এখনই উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা, খবর বিবিসির।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়ার মোতায়েন থাড সিস্টেম কয়েক দিনের মধ্যেই কার্যকর করার ঘোষণা দেয়। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, চলতি বছরের শেষ দিকের আগে এটি ব্যবহারের উপযোগী হবে না। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, “থাড এখন কোরিয়া প্রজাতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

তবে পদ্ধতিটির এখন ‘শুধুমাত্র প্রাথমিক বাধা দেওয়ার সক্ষমতা’ আছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। পদ্ধতিটির অন্যান্য অংশ আসার পর চলতি বছরের শেষ দিকে এটি আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন তিনি। থাড বা টার্মিনাল হাই অ্যালটিটুড এরিয়া ডিফেন্স দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কাউন্টি সেয়ংজুর একটি পরিত্যাক্ত গল্ফ কোর্সে স্থাপন করা হয়েছে।

সেখানে এটি স্থাপনের প্রতিবাদে আশপাশের বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়েছে। স্থানীয় অনেকের ধারণা, স্টিস্টেমটি সম্ভাব্য একটি লক্ষ্যস্থল হওয়ায় তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এই সিস্টেম বসানোর প্রতিবাদে শামিল চীনও। তাদের ধারণা, থাডের রাডারের পরিধির কারণে তাদের সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা অভিযানেও হস্তক্ষেপ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র যখন দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমটি মোতায়েনের কথা ঘোষণা করেছিল, উত্তর কোরিয়া ‘বাস্তব প্রতিক্রিয়ায়’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি-পাল্টা হুমকিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কোরীয় উপদ্বীপজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও একমাত্র ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের চাপ অগ্রাহ্য করে উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠবারের মতো পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালাতে পারে এমন ধারণা থেকে সৃষ্ট উদ্বেগ উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক পরীক্ষা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা থেকে বিরত রাখতে কোরীয় উপদ্বীপের জলসীমায় বিমানবাহী রণতরীসহ নৌবহর ও সাবমেরিন পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; এবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র বিরোধী সিস্টেমও ওগুলোর সঙ্গে যুক্ত হল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য