মোঃ আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল থেকেঃ ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈলে লিল্লাহ বোর্ডিং, কুরআন শিক্ষা, হাফেজিয়া মাদ্রাসা ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের দিয়ে রাস্তায়, হাট বাজার, ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে টাকা কালেকশনের কাজ চলছে পুরোদমে।

ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুর অন্তরে- গুনিজনের এসব কথার মূল্যায়ন আজ কালের দিনে করা হয় না। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

আগামী দিনে যারা দেশের নেতৃত্ব দিয়ে জাতির মাথা উঁচু করবে তাদের প্রতি অমানবিক আচরন করে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

তাদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে টাকা উঠানো, হাট বাজারে গিয়ে মানুষের কাছে টাকা চাওয়া. গ্রামে গঞ্জে বিভিন্ন ফসলাদি চাওয়ানো হয় এসব প্রতিষ্ঠানের নামে।

প্রতিষ্ঠানের নামে ভিক্ষা বৃত্তির কাজে ছাত্রদের অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

উপজেলার এক লিল্লাহ বোর্ডিং এর ছাত্র মো. মুনিরের সাথে কথা হলে সে জানায়, আমি ছয় মাস থেকে এতিমখানায় থাকি।

প্রতিদিন এভাবে টাকা পয়সা চাওয়ার জন্য বের হতে হয়। তাকে বাংলা পড়তে বললে সে পারেনা, আরবীতে আল্লাহু বানান করতে বললেও উত্তর দিতে পারেনি।

এই সমস্যা শুধু ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈলেই সীমাবদ্ধ নয়, নীলফামারী, দিনাজপুর, গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের আট জেলাতে অযস্র লিল্লাহ বোর্ডিং এতিমখানা চালু করে লোকচক্ষুর আড়ালে প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু ব্যাক্তি ব্যবসা শুরু করেছে।

অতন্ত নিম্নমানের পরিবেশে, অনাহারে অর্ধাহারে, কখনও শারীরিক নির্যাতনের মধ্যদিয়ে এই সমস্ত লিল্লাহ বোর্ডিং, এতিমখানার শিশুরা বেড়ে উঠে। ফলে সাধারন মানুষ ও সমাজের প্রতি তাদের ভেতরে জন্ম নিচ্ছে অনিহা এবং অসন্তোষ। এধরনের পরিবেশ পরিস্থিতি তাদের পরবর্তিতে বিপথগামী হতে পথ দেখাচ্ছে।

সরকার যখন জাতিকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এমন সময়ে এসব লিল্লাহ বোর্ডিং এর গুরুত্ব- প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা ভেবে দেখার বোধগম্য রয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, এই প্রথম আপনার কাছে শুনলাম, বিষয়টি আমি দেখি।

সত্যতা পেলে ছাত্রদের দিয়ে যেন টাকা উঠানো না হয় সে ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ করবো ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য