নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জ’র বিরুদ্ধে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি, পুলিশী নির্যাতনের প্রতিবাদ ও কোতয়ালী থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম এবং এসআই বিপ্লব কান্তি সরদারসহ দায়ী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে পৌরসভার কাউন্সিলররা। ১ মে সোমবারের মধ্যে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জকে নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে ২ মে থেকে পৌর পরিষদ অনির্দিষ্টকালের জন্য কলম বিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

রোববার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলরদের কক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলরদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহাম্মেদুজ্জামান ডাবলু।

এ সময় ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌরসভার ২নং প্যানেল মেয়র মো. রেহাতুল ইসলাম খোকা, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোস্তফা কামাল মুক্তিবাবু, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোস্তাফিুর রহমান মাসুদ, ৫নং ওয়ার্ড একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আল, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সিদ্দারাতুল ইসলাম বাবু, মহিলা কাউন্সিলর মাকসুদা পারভীন মিনা, শাহিন সুলতানা বিউটি, মাসতুরা বেগম পুতুলসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে প্যানেল মেয়র আহাম্মেদুজ্জামান ডাবলু বলেন, গত ২২-০৪-২০১৭ তারিখ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দিনাজপুর পৌর এলাকার ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড লাইনপার এলাকার মৃত- আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোঃ এনামুল ও মো. একরামুল, এবং মোঃ কাসেমের ছেলে মোঃ শফিকুলকে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের এসআই বিপ্লব কান্তি সরদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আটক করে।

আটকের পর ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাদেরকে বেধরক মারধর ও নির্যাতন করে। আটককৃতদের পরিবারের লোকজন এ ঘটনা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জকে ঘটনা জানালে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিবি পুলিশের সদস্যদের আটককৃতদের মারধর না করে থানায় নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে কাউন্সিলর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসেন। এর মধ্যে আটককৃতদের পরিবারের সদস্যসহ বাসস্ট্যান্ড এলাকার পরিবহন শ্রমিকরা জড়ো হয়ে আটককৃতদের মারধরের প্রতিবাদ জানালে ডিবি পুলিশের সদস্যরা আটক ৩ জনকে নিয়ে কোতয়ালী থানায় চলে আসে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার কিছুক্ষন কোতয়ালী থানার এসআই বিপ্লব কান্তি সরদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর অরেঞ্জ-এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে তাঁকে কোতয়ালী থানায় তুলে নিয়ে আসে। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অরেঞ্জের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১৪৩/৩০৭/৩৩২/৩৫৩/১১৪ ধারা মোতাবেক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাঁকে জেলে পাঠায়।

তবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আটক এনামুল, একরামুল ও শফিকুলকে ওইদিন রাতেই ছেড়ে দিয়েছেন কোতয়ালী থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম।

তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে পৌরবাসির যে কোন সমস্যায় কাউন্সিলরবৃন্দ অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন কাউন্সিলর যদি পুলিশ কর্তৃক মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হন, তাহলে পুলিশের এই আচরন জন রায়ের প্রতি অসম্মান করার শামিল বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য