মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, বীরগঞ্জ থেকেঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জের কৃষকের কপাল পুড়েছে ব্লাষ্ট রোগে। এই রোগ দেখা দেয়ায় কৃষকেরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। জমিতে গিয়ে হতাশার কান্না আর নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকেন তারা। বুকের মাঝে চাপা আর্তনাদ। কিন্তু কে শুনবে তাদের হতাশা আর আর্তনাদ। ফসলের রোগ সমাধানের জন্য পাগলের মতো একবার ছুটছে কৃষি কর্মকর্তা কার্যালয় আর একবার বিভিন্ন ওষুধের দোকানে। তবুও মিলছেনা প্রতিকার।

উপজেলায় বোরো খেতে ব্লাষ্ট রোগ দেখা দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। কীটনাশক স্প্রে করেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ধান খেত সাদা ও ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। জমির ফসল বাঁচাতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজ আসছেনা। এদিকে ফসল না পেলে সার , কীটনাশক ও তেলের টাকা কিভাবে পরিশোধ হবে দুঃশ্চিন্তায় কৃষক। তবে কৃষি বিভাগ ব্লাষ্ট রোগের কথা স্বীকার করলেও কৃষকদের আতংকিত না হবার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের দাবি এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে কৃষকের পাশাপাশি নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে কৃষি কর্মকর্তারা। ছুটির দিনেও কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিতে মাঠে দেখা গেছে কৃষিকর্মকর্তাদের। বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকের মাঝে পরামর্শ মুলক লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেছে।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কৃষি বীমা চালুর দাবী জানিয়েছেন কৃষক নেতা মোঃ রাজিউর রহমান রাজু।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ এবং ব্যবসায়ীদের বাজার সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্য মুল্য  হতে বঞ্চিত আমাদের এলাকার কৃষক। বাংলাদেশের প্রাণই হচ্ছে আমাদের কৃষক এবং তাদের উৎপাদিত পন্য। এই প্রেক্ষাপটে তাদের রক্ষার জন্য কৃষি বীমা চালু এখন সময়ের দাবি। আমরা আশা করছি সরকার এ বিষয়ে বিবেচনা করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের বিশেষ ভর্তুকি প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

এ দিকে উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের গান্ডারা গ্রামের বর্গাচাষী  খোকা দেব শর্মা   জানান, অন্যের জমি চুক্তিতে চাষ করেছি। জমির ধান ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও রক্ষা করা যাচ্ছে জমির ফসল। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত জমির পরিমান। এ অবস্থায় জমির মালিককে কি দিবো।  আর সার, কীটনাশক ও তেলের টাকা পরিশোধ করবো কিভাবে। সরকার যদি ভর্তুকির ব্যবস্থা না করে  তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।

নিজপাড়া ইউনিয়নের আওলাখুড়ী গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, ঠিক যেই মুহুর্তে ফসল ঘরের তোলার আনন্দে বিভোর কৃষকেরা। তখন ব্লাষ্ট নামক একটি ঘাতক কৃষকের সেই আনন্দে বিষাদের ছায়া ফেলেছে। সোনালী হাঁসির পরিবর্তে কৃষকের ঘরে ঘরে এখন কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। এখন আমাদের কি হবে। কিভারে চলবে আগামী দিনগুলি। কিভাবে পরিশোধ হবে সার, কীটনাশক ও তেলের টাকা। এখন যদি সরকার কৃষকের পাশে এসে না দাঁড়ায় তাহলে তো কৃষক পরিবার গুলির মাঝে হাহাকার দেখা দিবে। তাই খুব দ্রুত সময়ে কৃষকদের আর্থিক ভাবে সহায়তা প্রদান করা দরকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কখনও গরম আবার কখও শীত। আবার হঠাৎ বৃষ্টি ভোরে রাতে কুয়াশা। এমন বৈরী আবহাওয়া ব্লাষ্ট রোগের মুল কারণ। আবহাওয়ার পরিবর্তন অর্থাৎ রোদের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশা করছি। তবে কৃষকদের কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়ার কারনে রোগটি এখন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য