জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র যৌথ উদ্যোগে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে রংপুর বিভাগের সকল চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র নেতৃবৃন্দ ও অংশীজনের সাথে রংপুরে প্রথম বারের মত এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভা শীতল কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান।

প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাষ্ট্রিজ এর সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, লালমনিরহাট চেম্বারের সভাপতি মোঃ কামরুল ইসলাম, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি  রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী, নীলফামারী চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারহানুল হক, গাইবান্ধা চেম্বারের সভাপতি আনোয়ারুল কাদির,  রংপুর উইমেন চেম্বারের সভাপতি আনোয়ারা ফেরদৌসি পলি, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন, রংপুর বিড়ি মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবর রহমান, ভিন্নজগত এর স্বত্বাধিকারী এস,এম কামাল, সনিক প্রাইম গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার,  রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক বশির আহাম্মদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিনু শীল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য লুৎফর রহমান, পারভেজ ইকবাল, মোঃ রেজাউল হাসান, কর অঞ্চল রংপুরের কর কমিশনার মোঃ হারুন অর রশীদ ও কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুর এর কমিশনার মোহাম্মদ আহসানুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, রংপুর একটি সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল এলাকা, রংপুর বিভাগের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি কিভাবে ত্বরান্বিত ও গতিশীল করা যায় সে ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন-দেশীয় শিল্পকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা, রপ্তানিতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ, বিনিয়োগ ও উৎপাদনমূখী বাজেট প্রণয়ন করা হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন স্পর্শকারী পণ্য কর অব্যাহতি পাবে।

তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইন আতংক নয় বরং ব্যবসায়ীদের আর্শীবাদ হয়ে আসবে। নতুন আইনে কোন দুর্বলতা রাখা হবে না।  নতুন আইন হবে মসৃন ও সম্পূর্ণরূপে কষ্ট ও ক্লেশহীন। তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তুলছি। বিদ্যমান আইন থেকে আরেকটা আইনে যাবো, জনগণকে সচেতন করে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, শুধু কথায় নয়, এ যাত্রায় আমরা আপনাদের পাশে থাকবো। এ জন্য ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ভ্যাট সহায়তা কেন্দ্রের পাশাপাশি ইতিমধ্যে কল সেন্টার চালু করা হয়েছে।

এটি কোন একক যাত্রা নয়, এটি সম্মিলিত যাত্রা। ব্যবসায়ীদের সাথে পার্টনারশীপের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ করা হচ্ছে। তিনি এ প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত সমস্যা নিরুপনে ও রংপুর বিভাগে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে রংপুর চেম্বারের কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় রংপুর বিভাগের জনগণের সার্বিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করেন। তিনি বিষয়গুলো সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলে তুলে ধরে আসন্ন বাজেটে তা      সন্নিবেশিত করা হবে মর্মে আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রংপুর বিভাগের সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক অবকাঠামো এবং রাজধানী ঢাকার সাথে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং অঞ্চলভিত্তিক ভ্যাট ও কর হার ভিন্ন ভিন্ন করার পাশাপাশি গ্যাস বিহীন বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে ফার্নেস অয়েল এর ওপর সব ধরনের শুল্ক ও কর মওকুফ, রংপুর বিভাগের শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য কমিয়ে আনা, নতুন শিল্পোদ্যোক্তাদেরকে অগ্রীম আয়কর প্রদান থেকে অব্যাহতি,  রংপুর অঞ্চলের অটো রাইসমিলগুলোর আয়করের জিপি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেেেশর অন্যান্য অঞ্চলের সাথে সমতা রাখা, রংপুরের বিড়ি শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সিগারেট এবং বিড়ির মূল্যের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে আনা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবা খাতে যৌক্তিক হারে ভ্যাট আরোপ, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কৃষি যন্ত্রপাতির শুল্ক হ্রাস, রংপুর বিভাগের কৃষি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আলু রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি, ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স দেওয়ার সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা নির্ধারণ, করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৪ লক্ষ, মহিলা এবং ৬৫ বছরের উর্ধ্বে ৩ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ এবং প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, পাবলিক ট্রেড কোম্পানীর কর হার ২৫% এর পরিবর্তে ২০% এবং প্রাইভেট লিঃ কোম্পানীর কর হার ৩৫% এর পরিবর্তে ৩০% নির্ধারণসহ রংপুর বিভাগের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করার জন্য বাজেটে আলাদা বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। পরিশেষে তিনি আসন্ন বাজেটে সন্নিবেশিত করার লক্ষ্যে রংপুর চেম্বারের পক্ষ থেকে কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত ৩৭টি প্রস্তাব এবং রংপুর বিভাগের শিল্প ও বাণিজ্য সংক্রান্ত ১৪টি সুপারিশ সম্বলিত একটি প্রস্তাবাবলী অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমানের নিকট প্রদান করেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলার  জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, রংপুর বিভাগের ১০টি চেম্বারের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিবৃন্দ, সুধীজন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, কর অঞ্চল রংপুরের কর্মকর্তাবৃন্দ, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য