তবে ‘ডায়েট সোডা’ও কম যায় না। দ্ইু ধরনের পানীয় বেশি পান করলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।

চিনিযুক্ত কোমল পানীয়র খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে ‘ডায়েট সোডা’ পান করলেও নিস্তার পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে এই ধরনের মিষ্টি পানীয় বেশি পান করলে স্মরণশক্তি কমে যেতে পারে। আর প্রতিদিন ডায়েট সোডা গ্রহণ করলে ‘মতিভ্রংশ’ হওয়ার পাশাপাশি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রকাশিত দুটি ভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, চিনিযুক্ত এবং কৃত্রিম মিষ্টির পানীয় দুটাই মস্তিষ্কের বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে।

‘আলৎঝাইমার’স অ্যান্ড ডেমেনশা’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়, যারা ঘন ঘন মিষ্টি কোমল পানীয় পান করেন তাদের স্মরণশক্তি কম হওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কের ঘনত্বও কমতে পারে। আর উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়ে যেতে পারে ‘হিপোক্যাম্পাস’- মস্তিষ্কের এই অংশ স্মৃতি ও জ্ঞান আহরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই গবেষণার সূত্র ধরে পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ‘ডায়েট সোডা’ পান করেন অন্যদের তুলনায় তাদের অন্তত তিনগুন বেশি স্ট্রোক ও স্মৃতিলোপ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণা দুটির ভিত্তিতে গবেষকরা অনুমানে জানান, কৃত্রিম শর্করা মস্তিষ্কে ‘মিষ্টি’র অনুভূতি তৈরি হলেও সেটা নকল মিষ্টি হওয়ার কারণে পেটের ভেতরের ব্যাক্টেরিয়ার যে রূপান্তর হয় তা হয়ত ক্ষতি করে।

এই দুই গবেষণার প্রধান গবেষক বস্টন ইউনিভার্সিটি’র ম্যাথিউ পাস বলেন, “এটা কীভাবে কাজ করে তা জানার জন্য আমাদের আরও বিস্তারিত গবেষণা করতে হবে।”

গবেষকরা পর্যালোচনার জন্য ‘ফ্রামিংহাম হার্ট স্টাডি (এফএইএস)’এর তথ্য ব্যবহার করেন। ‘কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ (সিভিডি)’ বা হৃদসম্পর্কীত রোগের সাধারণ উপাদানগুলো নির্ণয় করাই ছিল এই জরিপের প্রধান লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিন’য়ের অধ্যাপক সুধা সেশাদ্রি বলেন, “এই গবেষণাগুলোর ফলাফলই শেষ কথা নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মানে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা।”

দুটি গবেষণারই জ্যেষ্ঠ গবেষক হিসেবে তিনি আরও বলেন, “চিনিযুক্ত কোমল পানীয়র তেমন কোনো উপকার নেই এবং বিকল্প চিনি গ্রহণেও তেমন কোনো লাভ নেই।”

অনেকদিন ধরে অতিরিক্ত শর্করা গ্রহণ করার ফলে হৃদসম্পর্কীত রোগ, স্থূলতা, টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানা থাকলেও মস্তিষ্কে কী বিক্রিয়া হয় সে সম্পর্কে খুব কমই তথ্য রয়েছে।

আর খাদ্যাভ্যাস থেকে কী পরিমাণ শর্করা শরীরে যাচ্ছে সেটা মাপা অতটা সহজ নয় বলে, গবেষণার জন্য শর্করাযুক্ত পানীয় বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান সেশাদ্রি।

প্রথম গবেষণার জন্য, প্রায় চার হাজার তৃতীয় প্রজন্মের জনগোষ্ঠী ও বংশধরের ‘ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমাজিং (এমআরআই) স্ক্যান ও ‘কগনেটিভ’ বা জ্ঞান আহরনের ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়।

যারা দিনে দুইয়ের বেশি যেকোনো ধরনের চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ করেছেন বা সপ্তাহে তিনটার বেশি ‘সোডা’ পানীয় পান করছেন, গবেষকরা তাদের উপর গুরুত্ব দেন।

এরমধ্যে যারা উচ্চ মাত্রায় গ্রহণ করছেন পানীয় এরকম মানুষদের মস্তিষ্ক বয়স্ক হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের পরিমাণ কমে যাওয়া, স্মরণশক্তি দুর্বল হওয়া এবং ‘হিপোক্যাম্পাস’ ছোট হয়ে যাওয়ার সমস্যা পাওয়া গেছে, যা ‘আলৎঝাইমা’স’ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।

আর যারা ডায়েট পানীয় বেশি পান করেছেন, মানে দিনে অন্তত একটা, তাদেরও মস্তিষ্কের পরিমাণ কমতে দেখা গেছে।

দ্বিতীয় গবেষণায়, প্রাপ্তবয়স্ক বংশধরদের একাংশের বিশেষ করে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া বা আলৎঝাইমার’স রোগের কারণে স্মৃতিলোপ পাওয়া পরীক্ষার তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, অন্যাদের চাইতে যারা দিনে অন্তত একটা ‘ডায়েট সোডা’ পান করেছেন তাদের প্রায় তিনগুন হারে স্ট্রোক এবং স্মৃতিভ্রংশ রোগ হতে দেখা গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য