দিনাজপুর সংবাদাতা॥ দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের উত্তর ভাবনীপুর ও আশেপাশের গ্রামগুলোতে চলছে শোকের মাতম আর আহাজারী। প্রতিদিন কোন না কোন বাড়ীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুলখানী। পাশাপাশি চলছে দাফন কাজ।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধদের মৃত্যুর তালিকা বাড়ছে প্রতিদিনই। মৃত্যুবরন করছে এমন পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যত নিয়ে উৎকন্ঠায় রয়েছে তাদের স্বজনরা।

সদর উপজেলার যেসব গ্রামের লোকজন আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, সেসব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তাদের স্বজনেরা রয়েছেন উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায়। কখন যে কার মুত্যুর খবর আসে-এ নিয়ে তারা নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন।

এদিকে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে দগ্ধ মনোরঞ্জন রায় (৩৬) নামে আরেকজন। সোমবার সকালে রংপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। এনিয়ে  মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়ালো ১৩ জনে।

এসব গ্রামে হতাহতদের বাড়ীতে গিয়ে অভিযোগে জানাগেছে, মিল মালিকের প্রতি তারা বেশ ক্ষুব্ধ। যেই রাইস মিলে কাজ করতে গিয়ে তাদের এমন পরিনতির শিকার হতে হয়েছে, সেই মিল মালিক সুবল ঘোষ তাদের কোন খোজ খবরই নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা।

নিহত মোকছেদ আলীর পুত্র মতিউর রহমান জানান, ক্ষতিপুরন বা সাহয্য তো দুরের কথা-তাদের শোকাহত পরিবারের একটি বারও খবর নেন নি মিল মালিক। অথচ ত্রুটিপুর্ণ ও জরাজীর্ণ মিলে কাজ করিয়ে তার বাবার প্রাণটি কেড়ে নিয়েছে মিল মালিক সুবল ঘোষ।

মৃত রুস্তম আলীর পুত্র সেলিম হোসেন জানান, তাদের পরিবারটিই তার বাবার উপর নির্ভর ছিলো। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।একই অবস্থা মকছেদ আলীসহ অন্যান্য নিহত পরিবারেও। একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যুতে পুলিয়াপাড়ার জহির উদ্দিনের বাড়িতে কান্না থামছেই না। এলাকাবাসী ও স্বজনরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এই মৃত্যুর বিচারের দাবিতে আজ মানববন্ধন করেছেন।

এ সময় নিহত মোকছেদ আলীর পুত্র মতিউর রহমান জানান, ক্রটিপুর্ণ ও জরাজীর্ণ মিলে কাজ করিয়ে তার বাবার প্রাণটি কেড়ে নিলো।

দিনাজপুর চাতাল ও চালকল শ্রমিক সহায়তা কমিটির (চাসক) আহ্বায়ক সাইফুর রাজ চৌধুরী ও সদস্য সচিব মজিবর রহমান জানান, ত্রুটিপুর্ণ বয়লারের বিষয়ে মিল মালিকদের বার বার অভিযোগ করা হলেও তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। বিচার বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি নিহতদের প্রত্যেককে ৫লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরণের দাবি জানিয়েছেন।

গত ৫ বছরে দিনাজপুরে ৭টি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন আর ২৩ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল দিনাজপুর সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ শেখহাটি এলাকায় সুবল ঘোষের মালিকানাধীন যমুনা অটোরাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরন ঘটলে ২৮জন দগ্ধ হয়। দগ্ধ ২১জনকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এদের মধ্যে আশংকাজনক ১৯জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দগ্ধ ২৮ জনের মধ্যে রোববার পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো-মকছেদ আলী, মোঃ আরিফ, অঞ্জলী বালা, রস্তম আলী, রনজিৎ বসাক, সফিকুল ইসলাম, উদয় চন্দ্র, দেলোয়ার হোসেন, দুলাল চন্দ্র, মুকুল মিয়া, মোঃ মুন্না, মোঃ রিপন ও মনোরঞ্জন রায়।

রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন ৭ শ্রমিকের মধ্যে ৬জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে তিনজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য