দিনাজপুর সংবাদাতা ॥ দিনাজপুরে যমুনা অটোরাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় মিল মালিক সুবল ঘোষসহ তিন জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার বয়লার বিস্ফোরণে নিহত রিপনের স্ত্রী মোছা. মদিনা বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। অপর দুই আসামী হলেন কমল ও একরামুল।

গত বুধবার সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ শেখহাটি এলাকায় সুবল ঘোষের মালিকানাধীন যমুনা অটোরাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

গত রোববার রাতে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শহরের নিমনগর বালুবাড়ীর বাসিন্দা মো. শওকত আলীর ছেলে মো. রিপন (৩০)।

এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম জানান, যমুনা অটোরাইস মিলের মালিক সুবল ঘোষ, কমল ও একরামুলকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহত রিপনের স্ত্রী মদিনা বেগম। অসাবধানতা ও অবহেলার কারণে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মর্মে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল দিনাজপুর সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ শেখহাটি এলাকায় সুবল ঘোষের মালিকানাধীন যমুনা অটোরাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটলে ২৮ জন দগ্ধ হন। দগ্ধ ২১ জনকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১৯ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দগ্ধ ২৮ জনের মধ্যে রোববার পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এরা হলেন- রনজিৎ বসাক (৫০), মো. শফিকুল ইসলাম (২০), উদয় কুমার (৩০), মো. দেলোয়ার হোসেন (৪০), দুলাল চন্দ্র (৪০), মো. রিপন (৩০), মকুল মিয়া (৪৬), মো. মুন্না (৩২), অঞ্জলী বালা, মকসেদ আলী, আরিফুল ইসলাম, রস্তম আলী ও মনোরঞ্জন রায়।

রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন সাত শ্রমিকের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে তিনজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য