ফুলবাড়ী(দিনাজপুর)প্রতিনিধি: দিনাজপুরেরর ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাড়িয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘ দূর্ভোগের পর অবশেষে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছে গ্রামবাসীরা।

মঙ্গলবার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের লক্ষিপুর বাজার সংলগ্ন মহদীপুর গ্রামের যাতায়াতের রাস্তায় নির্মিত বাঁশের সাকোটি দেখতে গিয়ে দেখা যায়, মহাদীপুর, মহেশপুর, বারই পাড়াসহ কয়গ্রামের মানুষ একত্রে বাঁশের সাকোটি নির্মাণ করছেন। গ্রামবাসীরা জানায়, ঐ স্থানে একটি ব্রীজ ছিল। ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ৩২ লাখ ব্যায়ে একটি নতুন ব্রীজের টেন্ডার হয়।

টেন্ডার হওয়ার ওই ব্রীজটির ঠিকাদার পূরাতন ব্রীজটি গত ০৬ মাস আগে ভেঙে নিয়ে যাওয়ার পর এখণ পর্যন্ত সেখানে নতুন ব্রীজ নির্মানের কাজ শুরুই করেনি। এমনটি গ্রামবাসী যাতায়াতের জন্য বিকল্প কোন রাস্তাও তৈরী করে নাই।

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে এখণ সেখানে  ৩থেকে ৪ফুট পানি হওয়ায় গ্রামবাসীরা যাতায়াত করতে পারছিলনা। এমনকি সংশ্লিষ্ঠ চেয়ারম্যান ও ঠিকাদারের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোন লাভ হয় নি। অবশেষে তারা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে গত রোববার থেকে এই বাঁশের সাকো নির্মান কাজ শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার সাকোর কাজ শেষ হয়েছে।

মহাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক, মহেশপুর গ্রামের সুশিল, ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম, একই এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গির আলম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন মহাদীপুর, কিসমতলালপুর, বালুপাড়া, বারাইপাড়াসহ দশ গ্রামের প্রায় ৫হাজার লোক ও লক্ষিপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যায়নরত শত শত শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। এতদিন তারা ব্রীজের নীচ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনে সেখানে পানি হওয়ায় তারা যাতায়াত করতে পারছে না। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান এর নিকট বার বার যাতায়াতের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করে। কিন্ত  কোন ফল না পেয়ে গ্রামবাসীরা নিজেরাই এই সাকোটি তৈরী করছে।

এ বিষয়ে খয়েরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন ব্রীজ নির্মাণের স্থানে পানি হওয়ায় ঠিকাদার ব্রীজটি নির্মাণ কাজ করতে পারছে না। তবে গ্রামবাসীরা ইচ্ছা করলে অন্য রাস্তা দিয়েও যাতায়াত করতে পারত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য