আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকেঃ লালমনিরহাটের ফসলের মাঠগুলোতে এখন বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। অনেক পরিশ্রমের কাঙ্খিত সোনালী ফসল ঘরে তুলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চায় কৃষকরা। কৃষকরা তাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছে সোনার ফসল ঘরে তোলার কাজে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে এবার ধানের ফলন কম হওয়ায় চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ।

তাই সরকার সরাসরি প্রান্তিক চাষিদের নিকট হতে ধান ক্রয় করলে এ ক্ষতিটুকু কাটিয়ে ওঠতে পারবে কৃষক। দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের হাতছানি। লালমনিরহাটের চাষিরা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ধান কাটায়। দফায় দফায় কালবৈশাখী ঝড়,শিলা বৃষ্টি,রোগ বালাই আর পোকার আক্রমনে ক্ষতির পর খেতের বাকি ধানটুকু তড়িঘড়ি করে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন চাষিরা। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করেছিল চাষিরা। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ায় তা আর হবেনা।

একাধিক চাষি জানায়,বিঘা প্রতি ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এতে বিঘাপ্রতি ধানের ফলন হওয়ার কথা ২০ থেকে ২২ মণ। কিন্তু বৈরী আবহাওয়াসহ নানা কারণে এবার ফলনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।ফলে ধান চাষে তাদের লোকসান গুনতে হবে।

এদিকে ধানের আরো বেশী ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে খেতের আশি ভাগ ধান পেকে গেলেই তা কাটার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।জেলা সদরের মহেন্দ্রনগর এলাকার চাষি নেছার উদ্দিন,তালুক খুটামারা এলাকার আব্দুল গফুর জানান, যদি বাজারে ধানের দর ভালো থাকে তাহলে ফলন বিপর্যয়ের মধ্যেও কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ধানের দাম বৃদ্ধি ও সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি সকল প্রান্তিক চাষীদের।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধানের কিছু ক্ষতি হলেও যেহেতু ধান পেকে গেছে এবং কাটা শুরু হয়েছে তাই তেমন ক্ষতি হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলা কৃষি প্রশিক্ষন কর্মকর্তা -ডক্টর মো:সরওয়ারুল আলম জেলায় এবার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৪ বিঘা (৫০ হাজার ৮৫ হেক্টর) জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৫ মেট্রিক টন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য