ইয়েমেনের জনগণ গত সাতদিন ধরে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছে। বিভিন্ন দেশ ইয়েমেনের জনগণের ধারাবাহিক এ প্রতিবাদ সমাবেশ ও রোডমার্চকে স্বাগত জানিয়েছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে জনগণ আল হাদিদে বন্দরে সমবেত হচ্ছে। আল জামিশে এলাকার অধিবাসীরাও ওই বিশাল সমাবেশকে স্বাগত জানিয়ে তারাও এতে শামিল হয়েছে। এই বিশাল রোডমার্চের নাম দেয়া হয়েছে ‘রুটির জন্য মিছিল’। জনগণ কেন হাদিদে বন্দর অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

গত ১৯ তারিখ থেকে ইয়েমেনের জনগণের রোডমার্চ শুরু হয় এবং রাজধানী  সানা থেকে তারা হাদিদে বন্দরে গিয়ে সমবেত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ আল হাদিদে বন্দরকে সৌদি আরব সামরিক এলাকা হিসাবে ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রতিবাদে ইয়েমেনের জনগণ এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে। সৌদি আরব গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে বোমা বর্ষণ করে আসছে এবং দরিদ্র এ দেশটিকে চারিদিক থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

আল হাদিদে বন্দর ব্যবহার করে ইয়েমেনের ভেতরে অস্ত্রশস্ত্র পাঠানোই সৌদি আরবের ওই ঘোষণার উদ্দেশ্য যার লক্ষ্য ইয়েমেনকে আরো অস্থিতিশীল করে তোলা এবং বন্দরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ওই দেশটিকে আরো বেশি অবরুদ্ধ করে রাখা। কারণ ওই বন্দর আটকে দেয়ার অর্থই হচ্ছে এরপর থেকে ইয়েমেনে আর কোনো খাদ্য, ওষুধ  কিংবা অন্যান্য জরুরি পণ্য ইয়েমেনে ঢুকতে পারবে না। এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য ইয়েমেনে প্রবেশ করে।

আল হাদিদে বন্দরকে সামরিক এলাকা হিসাবে ঘোষণার পেছনে সৌদি আরবের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইয়েমেনের জনগণ ও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। সৌদি আরব গত দুই বছর ধরে ব্যাপক হামলা চালিয়েও পলাতক প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদিকে ইয়েমেনের ক্ষমতায় বসাতে ব্যর্থ হয়েছে। মানসুর হাদিকে ক্ষমতায় বসাতে শুধু যে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয় একই সঙ্গে সেখানে দিন দিন জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ বাহিনী শক্তিশালী হয়েছে এবং জাতীয় সরকার গঠিত হয়েছে। এর ফলে মানসুর হাদিকে ইয়েমেনের ক্ষমতায় বসানোর স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

বর্তমানে সৌদি আরব আল হাদিদে বন্দরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ রুট ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে যাতে ইয়েমেনের জাতীয় সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা যায়।

সৌদি আরবের ওই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য ইয়েমেনের জনগণ সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দলে দলে হাদিদে বন্দরে এসে সমবেত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা রোডমার্চের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, সৌদি অপরাধযজ্ঞের কারণে ইয়েমেনের জনগণের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে এবং তাদের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। এ অবস্থায় হাদিদে বন্দর বন্ধ করে দেয়া হলে ইয়েমেনের জনগণের জন্য মহাবিপর্যয় নেমে আসবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ‘রুটির জন্য মিছিল’-এর অন্যতম আয়োজক আজাউদ্দিন আশ্ শারআবি বলেছেন, জীবন রক্ষার জন্য এবং সৌদি আরব ও তার মিত্রদের ভয়াবহ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্যই এ বিশাল  রোডমার্চের ডাক দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য