কট্টর-ডানপন্থি দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এফএন) নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির প্রার্থী, রানঅফ ভোটের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যারিন লো পেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ফ্রেঞ্চ টিভিকে লো পেন জানান, তার দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থাকা দরকার।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর একজন হয়ে দ্বিতীয় পর্বের (রানঅফ) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পৌঁছানোর একদিন পর সোমবার তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে তিনি উদার মধ্যপন্থি প্রার্থী ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মুখোমুখি হবেন। প্রথম পর্বের ভোটাভুটিতে ম্যাক্রোঁ সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

জনমত জরিপে আভাস পাওয়া গেছে, দ্বিতীয় পর্বের ভোটেও ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট ফেভারিট।

তারপরও জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয় জানিয়ে লো পেন বলেছেন, “আমরাও জিততে পারি, আমরাই জিতব।”

তবে তার কথাবার্তায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তার দলীয় প্রধানের পদ ছাড়ার বিষয়টি সাময়িক হতে পারে।

ফ্রেঞ্চ টু-কে তিনি বলেছেন, ফ্রান্স একটি ‘চূড়ান্ত মূহুর্তের’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্টকে ফ্রান্সের সকল মানুষের মধ্যে মিলন ঘটাতে হবে, এই ‘গভীর প্রত্যয়বোধ’ থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন লো পেন।

“তাই, এই সন্ধ্যা থেকে আমি আর ন্যাশনাল ফ্রন্টের সভাপতি না। আমি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী,” বলেন তিনি।

২০১১ সালে বাবা জঁ মারি লো পেনের কাছ থেকে এফএনের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেছিলেন পেন। তার নেতৃত্ব গ্রহণের পর ফ্রান্সের আঞ্চলিক নির্বাচনগুলোতে এফএন বড় ধরনের সাফল্য পায়। তার নেতৃত্বেই দলটি গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটে ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান দখলকারী রক্ষণশীল দলের প্রার্থী ফ্রঁসোয়া ফিয়ঁও সোমবার রিপাবলিকান দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন।

নিজ দলীয় নেতাদের তিনি বলেছেন, আইনপরিষদের নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার আর কোনো ‘বৈধতা’ তার নেই।

“অন্যান্যদের মতোই তিনি সাধারণ একজন আন্দোলনকারী” হয়ে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য