দিনাজপুর সংবাদাতাঃ অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চিরিরবন্দর উপজেলার দিপবিস-১’র রাণীরবন্দর জোনাল অফিসের নরেশ চন্দ্র সরকার নামে এক ওয়ারিং পরিদর্শককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খানসামা উপজেলা বেলপুকুর গ্রামের মৃত সলিমদ্দিনের ছেলে মিলচাতাল ব্যবসায়ী নাজিমউদ্দিন গত ৬ বছর পূর্বে তার মিলে বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগের জন্য (আবেদন নং ৮৫৮) আবেদন করে। আবেদনটি গত ২৭ জুলাই ২০১৩ইং সালে অনুমোদন হয়। ওই অনুমোদনপত্রটি গ্রাহকের নিকট পৌঁছানোর লক্ষ্যে এলাকা পরিচালক আমিনুল ইসলাম মিনুর হাতে দেওয়ার কথা বলে দিপবিস-১’র রাণীরবন্দর জোনাল অফিসের ওয়ারিং পরিদর্শক নরেশ চন্দ্র সরকার হাতিয়ে নেয়।

দীর্ঘ ৬ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর গত ৭ এপ্রিল নাজিম উদ্দিন বৈদ্যুতিক সংযোগের বিষয়ে দিপবিস-১’র রাণীরবন্দর জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেন। তিনি জোনাল অফিসের ওয়ারিং পরিদর্শক নরেশ চন্দ্র সরকারের সাথে যোগাযোগ করলে বিদ্যুৎ আইনের ধারা পরিবর্তন হওয়ায় পুরাতন নিয়মানুযায়ী সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে খরচ যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে পুনরায় ফাইলটি দিনাজপুর সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দেন।

শুধু নাজিমদ্দিনই নয় পাকেরহাট ও সুবর্ণখুলী গ্রামের অকড়াবাড়িবাজারে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রত্যাশী অনেক গ্রাহককে ওই ওয়ারিং পরিদর্শক বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগ সংক্রান্ত হয়রানী ও অনিয়ম করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দিপবিস-১’র কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ (সংশোধিত ২০১২) এর ধারা ৪৩ এর উপধারা (১) অনুযায়ি ওয়ারিং পরিদর্শক নরেশ চন্দ্র সরকারকে গত ১১ এপ্রিল (স্মারক নং  ২৭.১২.২৭৬৪.৫১৯.০১.২১৯(৩).১৭.১২৭৫) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অপরদিকে, ওয়ারিং পরিদর্শক নরেশ চন্দ্র সরকার জানান- এলাকা পরিচালক আমিনুল ইসলাম মিনু আমার ওপর ক্ষেপে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে কৌশলগত অভিযোগের ভিত্তিতে বরখাস্ত করিয়েছেন।

এলাকা পরিচালক আমিনুল ইসলাম মিনু বলেন, খানসামায় মিল মালিকের ৬ বছর আগের সংযোগ আবেদনের বিষয়টির সাথে আমার কোন সম্পৃত্ততা নেই। আমি ওই সংযোগটির ফাইল নিয়মমাফিক জমা  দেওয়ার কথা বলেছি।

দিপবিস-১’র সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা আমাদের অফিসিয়াল ব্যাপার। আপনাদের এ বিষয়ে জানার কোন প্রয়োজন নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য