গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার দক্ষিণ দামোদরপুর গ্রামের সায়েব মন্ডলের কন্যা সোনিয়া বেগম (২৩)।  রানা প্লাাজা ধসে পা হারিয়েছেন তিনি।  ২০১১ সালে মিজানুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।  দুজনই অষ্টম শ্রেণি পাস।  তবে বিয়ের পর বছর দুয়েক বেকার জীবন কাটান।  এরপর দুজন রানা প্লাজা ভবনের এক কারখানায় কাজ নেন।  চাকরীর ২২ দিনের মাথায় ভবন ধসের ঘটনা ঘটে।  মিজানুর অন্য কাজে বাইরে থাকায় বেঁচে যান।

সোনিয়া বেগম বলেন, ধসের তিন দিন পর উদ্ধারকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন।  এনাম হাসপাতালে ডান পা কোমরের নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়।  সোনিয়া ১০ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা পেয়েছেন।  সেখান থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার করে টাকা পান।  ওই টাকায় এখনো চিকিৎসা ও সংসার চালাতে হয়।

সোনিয়ার স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, বাড়িতে ছোট আকারের মনিহারি দোকান দিয়েছি।  দুজনেই ব্যবসা দেখাশোনা করছি।  দেড় বছরের শিশু মিম্মি ও মা-বাবাকে নিয়ে কোনো রকমে সংসার চলছে।  সরকার চাকরীর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো চাকরি পাইনি।

সাদুল্যাপুর উপজেলার কিশামত হলদিয়া গ্রামের স্মৃতি রানী রানা প্লাাজা ধসে নিহত হন।  তাঁর মা সন্ধ্যা রানী বলেন, স্মৃতির চাকরীর টাকায় সংসার চলত।  প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাই।  সে সময় বলা হয়েছিল, নিহত পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরী দেওয়া হবে।  কিন্তু চাকরি দূরের কথা, কেউ খোঁজও নেয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য