ফ্রান্সে রোববার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী এককভাবে শতকরা ৫০ ভাগের বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে এ নির্বাচন দ্বিতীয় পর্বে গড়াতে যাচ্ছে। ৭ মে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন রোববারের ভোটাভুটির দুই শীর্ষ প্রার্থী উগ্র-ডানপন্থি নেত্রী ম্যারিন লে পেন ও মধ্যপন্থী নেতা এমানুয়েল ম্যাকরন।

রোববার রাতে প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ম্যাকরন ২৩.১১ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লে পেন পেয়েছেন ২৩.০১ শতাংশ ভোট। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন কোটি ৩২ লাখ ভোট গণনা করে এই ফলাফল জানিয়েছে। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় চার কোটি ৭০ লাখ।

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ম্যারিন লে পেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ এবং এই জোটের একক মুদ্রা ইউরো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ফলে তিনি ক্ষমতায় এলে ইইউ’র মৌলিক কাঠামো বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।

ব্রিটেনের মতো ফ্রান্সকেও তিনি ইইউ থেকে বের করে নিয়ে যেতে পারেন।  ব্রিটেনের ব্রেক্সিটের আদলে ফ্রান্সে ফ্রেক্সিট বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়ে ‘অনলি ফ্রান্স’ বা শুধু ফ্রান্স স্লোগান নিয়ে নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া, ফ্রান্সে অভিবাসী সংকট তীব্রতর হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচনি প্রচারণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো অভিবাসীবিরোধী অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন লে পেন।

অন্যদিকে ম্যাকরন ইইউ’র পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।  তিনি জার্মানির সমর্থন নিয়ে ইউরোপে সামাজিক সুরক্ষার কাঠামো আরও জোরদার করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।  ৩৯ বছর বয়সি ম্যাকরন আসন্ন দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি হবেন ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি প্রেসিডেন্ট।

নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ১৪ মে’র মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য