দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে বয়লার বিস্ফোরনের ঘটনায় মৃত্যের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দিনাজপুরে যমুনা অটোরাইস মিলের বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনার দগ্ধ মিলের ম্যানেজান রনজিৎ বসাক (৫০), দেলোয়ার হোসেন (৪৫), মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪৫) উদয় চন্দ্র (৩০) ও দুলাল চন্দ্র রায় (৪০) নামে মৃত্যু বরণ করে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ৩ টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে রনজিৎ বসাক, রবিবার দুপুর ১টায় দেলোয়ার হোসেন, দুপুর ২টায় দুলাল চন্দ্র রায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টায় শফিকুল ইসলাম ও আজ রোবাবার দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় উদয় চন্দ্র মারা যায়।

এর আগে বুধবার বিকেলে অঞ্জনা দেবী নামে এক নারীসহ ওই দিন রাতে মোকছেদ আলীর, বৃহস্পতিবার আরিফুল ও শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় রুস্তম আলীর  মৃত্যু হয়।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মারুফুল ইসলাম জানান, দগ্ধ প্রতিটি রোগীর অবস্থা আশংকজনক। এই মুহুর্তে তাদের শংকামুক্ত বলা যাবে না।

এদিকে দিনাজপুরে যমুনা অটো রাইস মিলের বয়লার বিস্ফোরনে নিহত ও আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ও মালিকের চরম অবহেলার জন্য বিচারের দাবীতে জেলা কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ ও বাসদ (মার্কসবাদী)’র ডাকে বিক্ষোভ সমাবেশ গোপালগঞ্জ হাটে অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবি’র সভাপতি কমঃ মেহেরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদল, জাসদের সাধাঃ সম্পাঃ শহিদুল ইসলাম, বাসদ মার্কসবাদী সংগঠক গোবিন্দ রায়। সভা পরিচালনা করেন কৃষক নেতা এস, এম চন্দন।

আজ সকাল ১১টায় চাউল কল শ্রমিক সহায়তা কমিটি (চাষক) এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বিকেলে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধ করা হয়।

মানবন্ধনে চাউল কল শ্রমিক সহায়তা কমিটি (চাষক) এর সদস্য সচিব মজিবর রহমান বলেন, কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ মালিকরা। নিরাপদ যোগ্য কর্মক্ষেত্রের অভাব,তাই আজ শ্রমিকরা মুখের অন্ন যোগাতে গিয়ে মিল চাতালে মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরন, আহতদের সু-চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারের জীবন-জীবিকা চলার ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন দাবী জানান তিনি।

এদিকে হতাহত পরিবারের মাঝে নিহতের পরিবারকে ২০হাজার টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুর রহমান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বরাদ্ধকৃত অর্থ নিহত ও আহত পরিবারের মাঝে তুলে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধদের সরকারীভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার দিনাজপুর সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ শেখহাটি এলাকায় সুবল ঘোষের মালিকানাধীন যমুনা অটোরাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরন ঘটলে ২৮জন দগ্ধ হয়। দগ্ধ ২১জনকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এদের মধ্যে আশংকাজনক ১৯জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে বয়লার বিস্ফোরনের ঘটনা তদন্তে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন।

আজ রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম -এর সাথে কথা হলে তিনি দিনাজপুর নিউজকে জানান, দিনাজপুরের বাহিরে মৃত্যু হওয়ায় নিহতের সঠিক সংখ্যা এখনও তার হাতে আসেনি।

যমুনা অটো রাইস মিলের বয়লার বিস্ফোরনে কোন প্রকার মামলা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আহত ও নিহতদের পরিবার থেকে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র আমার দ্রুত পদক্ষেপ নেব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য