বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ চাষাবাদকৃত খাস কৃষি জমির আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কেটে ফেলা হচ্ছে ৯একর জমির উঠতি বিভিন্ন ফসল। আর সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের মধ্য ভোগডোমা গ্রামের ভূমিহীন পরিবার।

তাদের দাবি এই প্রকল্প বাস্তয়নের কারণে সর্বশান্ত হতে চলেছে ৫০জন ভুমিহীন বর্গা চাষী পরিবার। তাই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে অকৃষি জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

বর্তমানে ৯একর জমিতে ভুমিহীন বর্গা চাষীদের চাষ করা ধান, ভুট্টা, কলা, করলা, বেগুন, ঝিঙ্গা রয়েছে বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে ভোগডোমা গ্রামের মৃত জুরান আলী শেখের ছেলে মোঃ আব্দুল মান্নান গত ১৫এপ্রিল ভোগডোমা মৌজায় আশ্রয়ন প্রকল্প না করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে (স্মারক নম্বর-০৫.৫৫.২৭০০.০১১.০৭.০১৬.১৭.১৪৪৫(৪) উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেনকে সরেজমিন পরিদর্শন পুর্ব্বক ২৬এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এরপূর্বে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বেশ কিছু শ্রমিক ভূট্টা এবং কলাগাছ কাটতে শুরু করেছে এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মধ্য ভোগডোমা গ্রামের ভূমিহীন পরিবার।

মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, বাপ দাদার আমল থেকে এই সরকারী জমি আমরা চাষাবাদ করে আসছি। দীর্ঘদিন ধরে জমির পরিচর্চা করার মধ্যদিয়ে উচ্চ ফলনশীল জমিতে পরিণত হয়েছে এই এলাকা। বছরের এখন তিনটি ফসল আবাদ হয়ে থাকে এই জমিতে। হঠাৎ করে সরকার এই কৃষি জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অথচ এর খুব কাছে আরো দুইটি আশ্রয়ণ রয়েছে। সেখানে থাকার কেউ নেই। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫০টি ভূমিহীন পরিবার। এতে ভূমিহীন পরিবারগুলি পথে বসতে হবে।

মৃত ইব্রাহিমের পুত্র মো; আমিনুল ইসলাম জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প বন্ধের জন্য লিখিত ভাবে আবেদন করার পরও আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করায় আমার ২৩শত কলার চাষ কেটে ফেলতে হবে। অথচ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে কলা আসবে গাছগুলিতে। এই অবস্থায় গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে করে আমার ৩থেকে ৪লাখ টাকার ক্ষতি হবে। মুলধনের পুরো টাকাটাই আমার ঋণের টাকা।  এখন তো আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে প্রশাসনের পক্ষে কেউ কথা বলতে রাজী হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য