দিনাজপুর সংবাদাতাঃ অবিরাম বর্ষণে দিনাজপুরের জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে লোকজন। বৈশাখ মাসে বৃষ্টিপাত হয় কিন্তু এধরনের বৃষ্টিপাত জেলার মানুষ আগে কখনও দেখেনি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও আবহাওয়া বর্ষাকালের কথা স্মরন করিয়ে দেয়। গত বুধবার থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার থেকে পরিমান বাড়তে থাকে।

আজ শনিবার ভোর রাত ৩টা থেকে মুসুল ধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে শনিবার সারাদিন স্থায়ী হয়। অতি বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নিচু এলাকা গুলিতে পনি জমে গেছে। নষ্ট হয়েছে শাক-সবজি চাষ, ভুট্টা ও ধানের ক্ষেতে পানি জমে অনেক জায়গায় ফসলের নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানি বেড়ে গেছে বিভিন্ন স্থানে মাছ চাষের পুকুরে। সহকারী এক কৃষিকর্মকর্তা জানান, ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি জমে থাকলে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, তবে এর চেয়ে বেশি সময় পানি আটকা থাকলে ধানের ক্ষতির ফলন নষ্ট হবে।

এ বর্ষণের ফলে দিনাজপুর পৌরসভার সংস্কারবিহীন অধিকাংশ সড়ক এখন নাজুক পর্যায়ে ঠেকেছে। বেশ কয়েকটি সড়ক চলাচল অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। পৌরসভার নিউটাউন আবাসিক এলাকা, ঘাসিপাড়া, পাহাড়পুর, বালুয়াডাঙ্গা, মিশোনরোড সহ আর বেশ কিছু এলাকায় রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে, ফলে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এছাড়া, চিরিরবন্দর, নবাবগঞ্জ, বিরল, বীরগঞ্জ, খানসামায়র ভাঙ্গা সড়কে যানবাহনগুলো বিকল্প পথে চলাচল করছে।

আশপাশের নিচু এলাকায় পানি জমে একাকার হয়ে গেছে। গত দু’দিনে শহরে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতির সংখ্যা অনেক কম। বিশেষ করে স্থানীয় গাবুড়া ব্রীজ সংলগ্ন টমেট হাটে ক্রেতা না থাকার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সবজি বেগুন, শশা, বিভিন্ন ধরনের সবজি বাগানে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে, এই বৃষ্টি আম এবং লিচুর জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে বলে বাগান মালিকরা জানায়। বৃষ্টির কারনে আম ও লিচুর গুটিতে পোকা-মাকড়ের আক্রমনের সম্ভাবনা কম। কীটনাশকের খরচ কমে যাওয়ায় তারা অনেক খুশি।

অবিরাম বৃষ্টির কারনে আবহাওয়া অনেক ঠান্ডা থাকায় লোকজনকে শীতের কাপোড় ব্যবহার করতে দেখা যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য