রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক জনমানুষের জন্য ক্রমেই ঝুকিপুর্ণ হয়ে উঠছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রশাসনের অনেক কর্তা ব্যক্তি যাতায়াত করলেও এ ব্যাপারে তাদের কোন বিকার নেই। সারাদেশে জনসংখ্যার সাথে পাল্ল¬া দিয়ে বাড়ছে যানবাহন।

মানুষের মহামুল্যবান জীবন কে গুরুত্ব দিয়ে সেভাবে গড়ে ঊঠেনি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা। প্রয়োজনের তাগিদে জীবনহানির শংকা নিয়ে চলাফেরা করছে মানুষ। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানজট এবং দুর্ঘটনা মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থা সত্ত্বেও মহাসড়কের উপর বিভিন্নস্থানে প্রতিনিয়ত বসছে হাট-বাজার। দেদার চলছে কেনা-বেচা।

জানা গেছে, শুধুমাত্র রংপুর থেকে বগুড়া পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার রাস্তায় ২০টি স্থানে প্রতিনিয়ত মহাসড়কের উপরেই বসছে হাট। উল্লে¬খযোগ্য হাটগুলো হচ্ছে,বৈরাগীগঞ্জ, জায়গীর,শঠিবাড়ী, বড়দরগাহ, বিশমাইল, কলাবাগান, লালদিঘী, জামতলা, খেজমতপুর, মাদারহাট ও ধাপের হাট, পলাশবাড়ী, কোমরপুর, বালুয়া, গোবিন্দগঞ্জ, মোকামতলা, চন্ডিহারা ও  মহাস্থানগড়।

এছাড়াও অসংখ্য স্থানে প্রতিদিন ছোট ছোট বাজার বসিয়ে সড়কের জায়গা দখল করেছে রাখা হয়েছে। মহাসড়কের উপর হাট বসার কারনে এসব  স্থানে একদিকে যেমন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে অন্য দিকে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটছে হতাহতের ঘটনা। এক পরিসংখ্যনে জানা গেছে, চলতি বছর (জানুয়ারী-মার্চ) ৩ মাসে বর্ণিত রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় অর্ধ-শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৫ শতাধিক  মানুষ আহত হয়েছে।

এদের অনেকেই বর্তমানে পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মহাসড়কের উপরে হাট ও দুর্ঘটনা সম্পর্কে একাধিক সময় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন ফল তো হয়নি উপরন্তুু নুতন নুতন স্থানে হাট আরও সম্প্রসারিত হচেছ। একাধিক বাস ও ট্রাক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কের উপর হাট বসার কারনে সৃষ্ট যানজটে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌছানো সম্ভব হয় না, ফলে দ্রুত গাড়ী চালাতে হয়।

আর যে কারনে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। হাটে পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের জন্য আসা অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,হাট ইজারাদাররা যেখানে হাট বসান আমরা সেখানেই মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করি। ক’জন হাট ইজাবাদারের সাথে কথা হলে তারা এ প্রতিনিধি কে জানান, মহাসড়কের উপর হাট বসালে ক্রয়-বিক্রয় বেশী হয়।

এরফলে তাদের মুনাফাও বেশী হয়। এ ব্যাপারে বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জানান, ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়ক থেকে হাটগুলো সরানোর চেষ্টা চলছে। তবে আশানুরুপ কাজ হচ্ছে না। তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ মহাসড়কে হাটগুলো উচ্ছেদের পক্ষে। তারা এ ব্যাপারে  প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য