অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ্, তার স্ত্রী রত্না পাঠক শাহ্ ও তাদের মেয়ে  হেবা শাহ্ মুগ্ধতা ছড়ালেন নাটকের মঞ্চে। আগ্রহভরে ঢাকার দর্শক উপভোগ করলেন তাদের অভিনীত নাটক ‘ইসমত আপা কে নাম’। ব্লুজ কমিউনিকেশনসের আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।

এই নাটকে ভারতের খ্যাতিমান নারীবাদী ও উর্দু ভাষার লেখক ইসমত চুঘতাইয়ের স্পষ্টবাদী লেখনীর মঞ্চরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ্ নিজেই। নাসিরুদ্দিন শাহ্ ঢাকায় নাটকটি মঞ্চায়নের জন্য তার দল ‘মোটলি’ নিয়ে এসেছেন। ‘ইসমত আপা কি নাম’ একটি নির্দেশনা হলেও এখানে তিনটি গল্পের আলাদা মঞ্চরূপে পরিবেশিত হয়েছে।

‘চুই মুই’, ‘মুঘল বাচ্চা’ ও ‘ঘরওয়ালি’ এই তিনটির মধ্য দিয়ে নির্দেশক ও শিল্পীরা তুলে ধরেছেন পুরুষনিয়ন্ত্রিত সমাজে নারীর পথচলা ও অস্তিত্ব রক্ষায় ভিন্ন তিন কাহিনি। সাবলীল বলার ভঙ্গিমায় নাটকে ছিল ব্যঙ্গ ও হাস্যরস।

নাটকের প্রথম গল্প ‘চুই মুই’। এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে দুইজন গর্ভবতী নারী। ট্রেনের একটি কামরায় তাদের দুইজনের দুই রকমের জীবন ভাবনা উঠে এসেছে। এই দুই নারীর গল্পের চরিত্রে রূপদান করেছেন নাসিরুদ্দিন শাহের মেয়ে হেবা শাহ।

ট্রেনের দুই নারীর মধ্যে একজনের জীবনযাপন অনেকটাই আরামপ্রদ। তার জীবনে কেনো কিছুর চিন্তা না থাকলেও তার শুধু একটাই আকাঙক্ষা ছিল তাকে গর্ভবতী হতে হবে এবং একটি বাচ্চার জন্ম দিতে হবে। আর সেটা এ কারণেই যে তার স্বামী যেন তাকে ছেড়ে না যেতে পারে। আর অন্য গর্ভবতী নারীটির জীবন একেবারেই ভিন্ন। তার না আছে স্বামী না আছে সম্পদ। তার পথচলা মসৃন নয়। তাকে প্রতি মুহূর্তে জীবনের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।

হেবা শাহ্ তার অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দুইজন নারীর চরিত্রেই অভিনয় করে গেছেন। পরিবেশনার সময় নানাভাবে দর্শকদের সঙ্গে মনোসংযোগের বিষয়টিতেও তার খেয়াল অপূর্ব।

এই নাটকের দ্বিতীয় গল্পের নাম ‘মুঘল বাচ্চা’। এই গল্পে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ্’র স্ত্রী রত্না পাঠক শাহ্ । এই গল্পটি ভারতে মুঘল আমলের পরবর্তী সময়কে ঘিরে। এই গল্পের চরিত্র দুটি- গোরি বি ও কালে মিয়া।

কালে মিয়া মুঘলদের বংশধর।তিনি স্ত্রীকে বিয়ের রাতেই একাকী ও অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে যান। এই গল্পে দেখানো হয়েছে কীভাবে ক্ষমতাধরদের বংশধরদের স্ত্রীদের তাদের নির্মমতা ও অক্ষমতার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়েছে।

‘ইসমত আপা কি নাম’ নাটকের শেষ গল্প ‘ঘরওয়ালি’। এটি ছিল এই নাটকের অন্যতম আকর্ষণ। এই গল্পেও দুটি চরিত্র। একদিকে অবিবাহিত মির্জা ও অন্যদিকে গৃহকপরিচারিকা ও যৌনকর্মী লাজ্জো। লাজ্জোকে অনেকেই কামনা বাসনার চোখে দেখে। কিন্তু তিনি তার গৃহকর্তাকে সমাদর করেন। একসময় তাদের সম্পর্ক পরিণয়ে রূপ নেয়। কিন্তু তাদের দুইজনের মধ্যে বিস্তর ফারাক। একজন বৃদ্ধ ও নার্ভাস মির্জা অন্যজন তরুণী ও স্বাধীনচেতা লাজ্জো। লাজ্জো তার জীবনে আরো কিছু চায়। কিন্তু মির্জা তা দিতে অপারগ। এক সময় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

নাটকের এই গল্পের মধ্য দিয়ে মূলত বৈবাহিক জীবন ও নারীর স্বাধীনতার বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। নাসিরুদ্দিন শাহ্ তার অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা এবং কণ্ঠশৈলী দিয়ে মির্জা ও লাজ্জোর চরিত্রে চমক দেখিয়েছেন। প্রতি মুহূর্তে তার অভিনয় ও সংলাপ প্রক্ষেপণ আনন্দ দিয়েছে দর্শক-শ্রোতাদের। এ সত্যিই এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা ঢাকার দর্শকদের জন্য।

ভারতীয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ্, তার স্ত্রী অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ্ ও মেয়ে হেবা শাহ্ গত বৃহস্পবিার ঢাকায় এসে পৌঁছান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য