একবার তাঁর ছবি চলেছিল টানা ২৫ সপ্তাহ। আর একবার ১৫ সপ্তাহ। শুক্রবারের টিকিটের লাইনে তখন হরনাথ চক্রবর্তী ছাড়া ভিড় হত না। তবে এ বার তিনি আর চেনা ছকে ‘অ্যাকশন’ বলার বান্দা নন। অনেক হয়েছে বক্স অফিসের কথা ভাবা। এ বার একটু অন্য রকম ভাবনা। তাঁর আসন্ন ছবির গল্প তুলে ধরবে মানুষের দুর্দশা। সাবেক ছিটমহলের মানুষের দুর্দশা। টাইম মেশিনে ১৯৭১ সালে ফিরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন গল্প। রিফিউজি ক্যাম্পে মানুষের দুর্দশার কথা। ছবির নাম ‘এপার ওপার’।

ছবিতে সবদিক থেকেই জুড়ে রয়েছে ‘এপার’ আর ‘ওপার’। অভিনেতা অভিনেত্রী থেকে শুরু করে প্রযোজক সংস্থা পর্যন্ত। ভারতের এন এম গ্লোবাল ফিল্মস এবং বাংলাদেশের ব্রিজ লিমিটেড ‘এপার ওপার’ এর প্রযোজক। বাংলাদেশের সোহানা সাবা আছেন ছবিতে অন্যতম মুখ্য চরিত্রে।

পরিচালক অয়ন চক্রবর্তীর ‘ষড়রিপু’র পর এটি সোহানার দ্বিতীয় বাংলা ছবি। রয়েছেন এই মুহূর্তে টেলিভিশনের অন্যতম চেনা মুখ সৌরভ চক্রবর্তী। কাস্টিংয়ের জন্য সীমান্ত পেরনোর কারণ ব্যখ্যায় হরনাথ বাবু বলেন, “একে তো আমাদের একজন মুসলিম অভিনেত্রীর দরকার ছিল।

দ্বিতীয়ত, উচ্চারণ আর কথার ভঙ্গিমাতেও যেন ওপারের মেয়ের ভাবটা ফুটে ওঠে।” সৌরভ আর সাহানা ছাড়াও ছবিতে রয়েছেন চন্দন সেন, অনামিকা সাহা, শঙ্কর দেবনাথ, দোলা চক্রবর্তীরা। গল্পের বাস্তব দিকটার দিকে তাকিয়ে বেশ কিছু নতুন মুখকেও নিয়ে এসেছেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী। ‘এপার ওপার’ এর সঙ্গীত পরিচালনা করছেন দেবজ্যোতি মিশ্র।

কোচবিহার, ছিটমহল, মশালডাঙা, নেপালগঞ্জে শুটিং হয়েছে ছবির। এই মুহূর্তে শুটিং চলছে নেপালগঞ্জে। শুটিং প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপরই এডিট টেবিলের-স্টক নিয়ে কাটাছেঁড়া করতে বসবেন পরিচালক। আগামী অগস্টেই ছবিটিকে দর্শকের সামনে নিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন পরিচালক। পরিচালক বলছেন, “দুই দেশেই আমরা চেষ্টা করছি যাতে ছবিটা রিলিজ করাতে পারি। কেননা ছবিটা দু’দেশের মানুষের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। দু’পারেরই মানুষ এই ছবিকে রিলেট করতে পারবেন।”

অভিনেত্রী সোহানা সাবা হরনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করতে পেরে বেশ খুশি। বললেন, “হরদার সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আমার কাছে একটা আলাদা পাওনা। যে ভাবে উনি ছিটমহলকে ফুটিয়ে তুলছেন, সেটার ধরন সত্যিই আলাদা।” এরপর আরও বাংলা ছবি রয়েছে সোহানার ওয়েটিং লিস্টে। তবে এই মুহূর্তে তিনি শুধুই ‘এপার ওপার’ এ মগ্ন।

রোজ সিরিয়ালে সময় দিয়ে সৌরভের ডেট দেওয়াটা ছিল একটু চাপের। সৌরভ বললেন, “দিনে সিরিয়াল, রাতে এই ছবি। আবার কখনও এর উল্টোটা, এই ভাবে কাজ করেছি। সময় আমাকে বার করতেই হত। এমন একজন বিশিষ্ট পরিচালকের থেকে অনেক কিছু শেখার থাকে। সে সুযোগ আমি ছাড়তে চাইনি।”

ডিমের সাদা অংশটা যদি হয় মুক্তিযুদ্ধ, তা হলে তার কুসুমে রয়েছে একটা নিপাট প্রেমের গল্প। সে প্রেম দু’পারের মাঝখানের এক অদৃশ্য সেতু। সেই সেতু তৈরির কাজটাই হরনাথ চক্রবর্তী করছেন তার ‘এপার ওপার’ দিয়ে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য