দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ইট ভাটা থেকে নির্গত দূষিত গ্যাসে ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের মালারপাড়া গ্রামের প্রায় ৮০ টি পরিবার ওই ক্ষতির শিকার হয়েছে। ক্ষতি হওয়া ফলের মধ্যে আম, কাাঁঠাল, জলপাই, মিষ্টি আমড়া,সুপারী, খেজুর ও লিচু রয়েছে। রয়েছে বোরো ফসলও।

ওই গ্রামের আঃ  রহিম জানান তার ১০০টি সুপারির গাছ সহ আম, কাঁঠাল ও লিচুর ক্ষতি হয়েছে। গাছ মরে যাওয়ার মত হয়েছে এবং ফল ঝরে পড়ছে। এরকম অভিযোগ ওই গ্রামের আঃ গোফ্ফার, বজলুর রশিদ, বুলি বেগম ও মোজাম্মেল হক সহ গ্রামবাসী অনেকেরই। তারা দাবী করছে গত কয়েক দিন পূর্বে তাদের গ্রাম সংলগ্ন কৃষি জমিতে স্থাপন করা এ বি এম নামে একটি ইট ভাটা থেকে নির্গত দূষিত গ্যাসের কারনে তারা ফল ফসলের ক্ষতির শিকার হয়েছে।

ইট ভাটার মালিক বিপুলের সাথে ভাটায় দেখা করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনও গ্রহন না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে  উপজেলা কৃষি অফিসার আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামানের সাথে মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না এবং তা দেখার জন্য মাঠ কর্মিকে পাঠাবেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজলুর রশীদ জানান বিষয়টি তিনি জানেন না।

যদি হয়ে থাকে তা পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেখতে হবে। এছাড়া ওই ভাটার কোন বৈধতা রয়েছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। উল্লেখ্য ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ মোতাবেক বছরে একাধিক কৃষি পণ্য উৎপাদন হয় এমন জমি, বন বিভাগের  ২ কিঃ মিটার দুরত্বের ভিতরে, গ্রামীন সড়কের অর্ধ কিঃ মিঃ মিটার দুরত্বের ভিতরে ও আবাসিক এলাকায় ইট ভাটা করা যাবে না  উল্লেখ থাকলেও এই উপজেলায় সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে সরকারী বন এলাকার ভিতরে,  ফসলী জমির উপরে, রাস্তার উপরে ও আবাসিক এলাকায় প্রায় ২০ টি ইট ভাটা গুলি স্থাপন করা হয়েছে। শুধু ভাটা স্থাপনেই শেষ নয়   কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করে তা  টাষ্ট্রক্টরে বহন করে ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

যদিও সেটি আইন বহির্ভূত। নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজলুুর রশীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান অবৈধ ইট ভাটার বেশ কয়েকটিতে তিনি অভিযান চালিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছেন।  ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করেছেন। তিনি তার সাধ্যমত ব্যবস্থা নিয়েই যাচ্ছেন। উপজেলা এলাকায় স্থাপন করা ইট ভাটা গুলি ইট ভাটা স্থাপন ও ইট পোড়ানো(নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩  মোতাবেক একটি ভাটাও স্থাপন যোগ্য নয়। ফসলী জমি রক্ষা সহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ভাটাগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ অতীব জরুরী বলে ভ’ক্তভোগীরা জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য