বীরগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা এবং মামলার আসামী বটতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে মামলার বাদীকে হুমকি প্রদান করা অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন আতংকিত পরিবার।

বুধবার সন্ধ্যায় মামলার বাদী মোঃ আফসার আলীর স্ত্রী মোছাঃ কুলসুম বেগমের নেতৃত্বে সাতোর ইউনিয়নের চকপাতলা গ্রামের ৩১ জন এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেনের নিকট উক্ত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারক লিপিতে উল্লেখ করেন, একই এলাকার মৃত শফির উদ্দিনের পুত্র ও বটতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুল লতিফ এর নেতৃত্বে এক দল সন্ত্রাসী গত ০৬/০৪/২০১৭ তারিখ বিকাল সাড়ে ৫টায় প্রতিবেশী মৃত শেফার উদ্দিনের পুত্র মোঃ আফছার আলীর বাড়ীতে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে বাড়ীর পুরুষদের আহত করে এবং মহিলাদের শ্লীলতাহানী করে।

এ সময় এলাকারবাসী তাদের প্রতিরোধ করলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকার লোকজন তাদের ঘিরে রাখে এবং পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ তাদের  উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আফছার আলী বাদী হয়ে গত ০৭/০৪/২০১৭ ইং তারিখে ১২ জনকে আসামি করে বীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার নং- ০২।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা আসামীরা বাদীর পরিবারের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা চালালে বাদী পূনরায় গত ১০ এপ্রিল বীরগঞ্জ থানায় ৪৩৮ নং একটি সাধারণ ডায়েরী করে। আসামীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীর ভাতিজি বটতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী জান্নাতুন, ভাতিজা দিনাজপুর সরকারি কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র কাউয়ুম আলীকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। আসামীরা মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা চেষ্টা কারণে এবং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন হুমকির কারণে নিরাপত্তার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেনের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন আতংকিত পরিবার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ঘটনার নেতৃত্বদানকারী আব্দুল লতিফ মামলার পর থেকে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে ১৭ এপ্রিল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য