উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। এতে করে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরুর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করছে বেইজিং।

সম্প্রতি বিবিসি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উত্তর ‍কোরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পরিকল্পনার সামান্য আভাস পেলেও ওয়াশিংটন কিছু করার আগেই তারা পরমাণু হামলা চালাবে।

ওই সাক্ষাৎকারের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এমন কোনও কাজ বা কথার বিরোধিতা করে চীন।

বেইজিংয়ে বিবিসি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি সাম্প্রতিক খবরগুলো দেখেছি। গত কয়েক বছরে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।”

“কোরীয় উপদ্বীপকে বাস্তবেই পরমাণুঅস্ত্র মুক্ত করে সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পালন করে আসছে চীন। সেইসঙ্গে সব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে।”

পিয়ংইয়ংয়ের সর্বশেষ বক্তব্যে এরই মধ্যে উত্তেজনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও মনে করেন লু।

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া ক্রামগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

সিরিয়ায় হামলার পর উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র। কোরীয় উপদ্বীপ ও ওই অঞ্চল সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ওয়াশিংটনের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়ার কথা বলে বলেন, “উত্তর কোরিয়া বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ধৈর্য ধারণ নীতির যুগ শেষ হয়ে গেছে।”

জবাবে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উত্তর কোরিয়া।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উত্তর কোরিয়া গত সপ্তাহে সামরিক মহড়ার মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। এছাড়া, রোববার তারা আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় এবং সোমবার সপ্তাহিক ভিত্তিতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র চালানোর হুমকি দেয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য