রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের ৮ হাজার একর বোরো ক্ষেত গত ১ সপ্তাহ ধরে পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান,গত বৃহস্পতিবার রাতে পর্যাপ্ত বৃষ্টির  ফলে আখিরা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড় বিলা এলাকার কৃষকরা তাদের বোরো ক্ষেত তলিয়ে যাবার আশংকায় বড় বিলার মুখে আখিরা নদীতে নির্মিত স্লুইস গেট এর পৃথক ৯ টি গেট বন্ধ করে দেয়।

ফলে আখিরা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উজানের কুমেদপুর,মদনখালী ও ভেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ৮ টি নদী ঘেষা গ্রামের প্রায় ৮ হাজার একর বোরো ক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে যায়। গ্রাম গুলো হচ্ছে-বগেরবাড়ি, বারুদহ, শ্যামপুর, হাসারপাড়া, বটপাড়া, মদনখালী, খয়েরবাড়ি ও জামালপুর। খয়েরবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান,সাজেদুল,মদনখালী গ্রামের জাহিদুল,গোলাপ মিয়া,বগেরবাড়ি গ্রামের পলাশ,বেলাল হেসেন ,বারুদহ গ্রামের মনোয়ার,সাজেদুল ইসলাম,হাসারপাড়া গ্রামের তালিম উদ্দিন আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করার পর গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমল কুমার ঘোষ স্বয়ং উপস্থিত থেকে ২ টি গেট এর আংশিক খুলে দেন। তিনি চলে যাবার পর রেগুলেটর সংলগ্ন গ্রাম গাড়াবেড় নখারপাড়ার লোকজন দলবদ্ধ হয়ে এসে গেট ২ টি বন্ধ করে দেন। তাদের মতে,পানি আটক করে না রাখা হলে ভাটি এলাকার ২/৩ হাজার একর জমির ধান ডুবে যায়।

এদিকে গেট বন্ধ করে দেয়ায় নদীর উজানে গ্রামগুলোর বোরো ক্ষেত আবারও পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। পরদিন আবারও নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হলে তিনি আর কোন পদক্ষেপ নেননি। এদিকে গত ১ সপ্তাহ ধরে ৮ হাজার একর বোরো ক্ষেত পানির নীচেই ডুবে রয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহে ওই বোরো জমির ধানগুলো সম্পুর্ন নষ্ট হয়ে যাবে মর্মে আশংকা করা হচ্ছে। পুরো সপ্তাহজুড়ে উপজেলা প্রশাসনের দ্বারে ধর্ণা দিয়ে কোন ফল না পাওয়ায় সোমবার এলাকার উদ্বিগ্ন কৃষকরা প্রেসক্লাবে এসে এ অভিযোগ করেন।

আকুতি ঝরা কন্ঠে কৃষকরা বলেন-অনেক কষ্টের এ আবাদ নষ্ট হয়ে গেলে ছেলেপুলে নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। এলাকার দু-একটা গেট এর আংশিক খুলে দিয়েও এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন-আমি তো গেট খুলে দিয়েছিলাম। পরে তা আবার কেউ খুলে দিলে আমার কি করার আছে ? ভুক্তভোগী কৃষককুল বিষয়টিতে জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য