জম্মু ও শ্রীনগর জাতীয় সড়কে ভারতের সবচেয়ে বড় সড়ক টানেলের উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রোববার উদ্বোধন করা ১০ দশমিক নয় কিলোমিটারের চেনানি-নাশরি টানেলটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মহাসড়ক টানেল বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

এই টানেলটি চালু করার ফলে জম্মু-শ্রীনগর মহাসড়কের চেনানি শহর থেকে নাশরি শহর পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে, আগের ৪১ কিলোমিটার সড়ক দূরত্বের জায়গায় বর্তমান দূরত্ব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কিলোমিটার। এতে জম্মু থেকে শ্রীনগর ভ্রমণের সময়ও দুই ঘন্টা হ্রাস পেয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এক হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় নির্মিত এই টানেলটি নির্মাণে তিন হাজার ৭০০ কোটি রুপি ব্যায় হয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও এই টানেলটি ব্যবহার করা যাবে এবং এটি যাত্রীদের নিরাপদ ও দ্রুত গমন নিশ্চিত করবে।

টানেলটি উদ্বোধন উপলক্ষ্যে মোদী রোববার বিমানযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের সদরদপ্তর উধামপুরে যান, পরে সেখান থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে চেনানি যান।

উদ্বোধনের পর মোদী জম্মু ও কাশ্মিরের গভর্নর এনএন ভোহরা ও মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে নিয়ে একটি খোলা জিপে টানেলরটি ভিতরে ঘুরে দেখেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের রাজ্য বিষয়ক মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, এই টানেলের কারণে প্রতি বছর ৯৯ কোটি রুপির জ্বালানি খরচ বেঁচে যাবে।

“প্রতিদিন ২৭ লাখ রুপি জ্বালানি খরচ বাঁচবে,” বলেন তিনি।

“যে কোনো আবহাওয়ায় এই টানেল ব্যবহার করা যাবে। তুষারপাত ও বৃষ্টিপাতের কারণে আগের মহাসড়কটি প্রায়ই বন্ধ রাখতে হতো, কিন্তু এই টানেলটি বন্ধ হবে না।

এটি রাজ্যের বাণিজ্য ও আয় অনেক বাড়িয়ে দিবে। এর কারণে পর্যটনও বাড়বে,” বলেন তিনি।

চেনানি-নাশরি টানেলটিতে ট্রান্সভার্স ভেন্টিলেশন সিস্টেম আছে। এই সুবিধার কারণে টানেলটিতে চলার সময় যাত্রীরা নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন। এ ধরনের লম্বা টানেলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা পরিমিত ও গাড়ির ক্ষতিকর ধোঁয়া থেকে মুক্ত রাখার জন্য ভেন্টিলেশন সিস্টেম জরুরি।

ভারতে এই সুবিধা সম্বলিত এটিই প্রথম টানেল এবং বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ। টানেলটি নির্মাণে সাত বছর সময় লেগেছ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য