শ্রীকৃষ্ণকে ’কিংবদন্তি ইভটিজার’ বলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত সিনিয়র আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে মামলা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ‘অ্যান্টি-রোমিও স্কোয়াড’ গঠন করায় রোববার তার সমালোচনা করতে প্রশান্ত ভূষণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে মন্তব্য করেন।

নারীদের উত্যক্ত করতে দেখলেই ধরপাকড় করছে উত্তর প্রদেশ পুলিশের ‘অ্যান্টি-রোমিও স্কোয়াড’। কিন্তু ওই বাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে নানা বাড়াবাড়ি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। যেখানে কোনো হেনস্তার ঘটনা নেই সেখানেও অতি সক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে ওই স্কোয়াডের বিরুদ্ধে। এমনকি রেহাই পাননি ভাই-বোনও। এর পরেই পুলিশকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

রোমিও স্কোয়াডের নামকরণ নিয়ে প্রশান্ত ভূষণ টুইটারে লেখেন, ‘রোমিও কেবল একজন নারীকেই ভালোবাসতেন, যেখানে কৃষ্ণ ছিলেন একজন কিংবদন্তি ইভটিজার। নজরদারদেরকে ‘অ্যান্টি-কৃষ্ণ স্কোয়াড’ নামে ডাকার সাহস কি আদিত্যনাথের আছে?’

প্রশান্ত ভূষণের ওই মন্তব্যের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে টুইটার এবং অন্য উপায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে।

দিল্লি বিজেপির মুখপাত্র টিপিএস বগ্গার মতে, ঈশ্বরকে অপমান করেছেন প্রশান্ত ভূষণ।

বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেছেন, ‘কৃষ্ণকে বুঝতে গেলে কয়েকবার জন্ম নিতে হবে। কত সহজেই কৃষ্ণকে রাজনীতির মধ্যে টেনে আনা হয়েছে। এটা খুব দুঃখের ।’

বিজেপি নেতা ভুপেন্দ্র যাদব বলেছেন, প্রশান্ত ভূষণ আগে ভারতীয় ঐতিহ্য এবং মহাকাব্যগুলো অধ্যয়ন করুন এবং তারপরে কোনো কথা বলুন।

এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ায় প্রশান্ত ভূষণ সাফাই দিয়ে বলেন, ‘রোমিও ব্রিগেড নিয়ে আমি যে টুইট করেছি, তাকে বিকৃত করা হচ্ছে। আমার অবস্থান হল, যে যুক্তিতে রোমিও ব্রিগেড নামকরণ, সেই যুক্তিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকেও ইভটিজার মনে হবে।’

কিন্তু তার ওই সাফাইতে বিশেষ আমল দেননি সমালোচকরা। প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে দিল্লি, উত্তর প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

লক্ষনৌয়ের হজরতগঞ্জ থানায় প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩-এ এবং ২৯৫-এ ধারা মোতাবেক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গাজিয়াবাদের এক ফাইনান্স কোম্পানির ম্যানেজার মুকেশ মিত্তাল আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে চড় মারলে এক লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।

লক্ষনৌয় প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র জিশান হায়দর প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে হজরতগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেছেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিরুদ্ধে খারাপ মন্তব্য কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে।

এদিকে, ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্বভদ্র পূজারী পুরোহিত মহাসঙ্ঘ রোববার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক শ্যাম সুন্দর শুক্লার নেতৃত্বে আলম্বাগ মন্দির চত্বরে কয়েকশ’ মানুষ জড়ো হয়ে প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে আলম্বাগ চৌরাস্তায় পর্যন্ত যায় এবং সেখানে প্রশান্ত ভূষণের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।

শ্যামসুন্দরের দাবি, সুপ্রিম কোর্টকে বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রশান্ত ভূষণের আইনজীবীর লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। সনাতন হিন্দু প্রথা এবং বিশ্বাসের ওপর আঘাতকে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। আদালত এবং জেলা প্রশাসন যদি প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে হিন্দুরা সম্মিলিতভাবে ধর্না-বিক্ষোভ করবে বলে বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে, প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধু-সন্তরাও। অখিল ভারতীয়  আখড়া পরিষদের সভাপতি মোহন্ত নরেন্দ্র গিরি বলেছেন, প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্যে কোটি কোটি  মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে। তার মন্তব্যকে তিনি ‘অসহ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

টিকারমাফি আশ্রমের মোহন্ত স্বামী হরিচৈতন্য ব্রহ্মচারী, প্রশান্ত ভূষণকে দ্রুত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন।

একইসঙ্গে তিনি বলেছেন ভাগবতাচার্য নিহারিকা শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা রোমিও’র কাজ নয় এবং তিনি কোনো ভুল বার্তা দেননি। তাকে বুঝতে গেলে মন পবিত্র করতে হবে বলে মোহন্ত স্বামী মন্তব্য করেন। তার দাবি, শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে রোমিও’র তুলনা করে উনি প্রমাণ করেছেন তার মতো অজ্ঞ মানুষ বিশ্বে নেই।

প্রশান্ত ভূষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন গায়ত্রী গঙ্গা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা পরমহংস প্রভাকরজি মহারাজও।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য