কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় মমতাজ বেগম (২৮) নামের এক মা একই সঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তাদের নাম রাখা হয়েছে হাসি খুশি নিশি। জন্মের পর তিন সন্তান সুস্থ থাকলেও প্রসূতি মায়ের অবস্থা হওয়ায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেবার পর সেখানে চিকিৎসা দিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের চাকতাবাড়ি গ্রামের দিনমজুর ঘরের মমতাজ বেগম এই তিন সন্তান জন্ম দেন।

যাদুরচর চাক্তাবাড়ি গ্রামের দিনমজুর মামুন মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগম। তাদের ঘরে ৯ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। দিনমজুর মামুন মিয়া জানান, মমতাজ সকালে বাড়িতে পর পর তিনটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। তাদের নাম রাখা হয়েছে হাসি, খুশি ও নিশি। পরিবার ও প্রতিবেরিা সবাই খুশি হয়েছি। কিন্তু মমতাজের শারিরিক অবস্থা অবনতি ঘটায় তাদেরকে রৌমারী হাসপালে নিয়ে ভর্তি করি। তিনি আরো বলেন, দিনমজুর মানুষ হামরা বিত্তবানরা সহযোগিতা না করলে মা ও শিশুদের বাঁচানো খুব দুঃসাধ্য হয়ে যাবে।
[ads1]
এদিকে এক সঙ্গে তিন কন্যা সন্তান জন্মের খবর মুহুর্তের মধ্যে সারা রৌমারীতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রসূতি মা ও তিন সন্তানকে এক নজর দেখার জন্য অসংখ্য মানুষ ভিড় করে হাসপাতালে।

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) চিকিৎসক সাহাবুল বাশার জানান, এক সঙ্গে তিন কন্যা সন্তান প্রসব করলেও নবজাতকরা সুস্থ্য আছে। তবে প্রসূতি মা’র অবস্থা নাজকু এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় জরুরী ভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য মা ও নবজাতকদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, এক সঙ্গে তিন সন্তান জন্ম হওয়ার ঘটনা খুব কমই ঘটে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নবজাতক মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে যেহেতু নবজাতকরা সুস্থ্য আছে এবং সময় মতো হাসপাতালে এনে পরিবারটি ভালো করেছে। তারপরও নবতাজকরা দুর্বল। এক মাসের মতো প্রসূতি মা ও নবতাজকদের চিকিৎসাধীন বা অবজারভেশনে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ) রাখতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য