কুড়িগ্রামের উলিপুরে জমজমাট ভাবে চলছে কোচিং বানিজ্য। এক শ্রেণীর শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজিরা দিয়ে কোচিং বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে জবাবদিহিতা না থাকায় শিক্ষকরা কারো তোয়াক্কা না করে অবাধে কোচিং ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে টিফিনের পর অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ে। এ প্রক্রিয়ায় স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকরা এগিয়ে রয়েছেন।

এরপর রয়েছে স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং কতিপয় শিক্ষিত বেকার যুবক। সরকারি ভাবে কোচিং বানিজ্য বন্ধে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এইসব মুনাফা লোভী অসাধু শিক্ষক এবং তাদের দোসররা কোচিং সেন্টার নাম পরিবর্তন করে স্কুলের নাম দিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিবাকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে। এ সময় নানারকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হয়।

এ কারণে বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু করে ১০টা এবং বিকাল ৪টার পর কোচিংএ ক্লাশ করার প্রচারণা থাকলেও দিনভর এগুলোতে ক্লাশ চলে। ফলে উপজেলার নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে দুই থেকে তিন ঘন্টার বেশী ক্লাশ হয়না। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী অভিভাবক আলম মিয়া ও নুর ইসলাম অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিদিষ্ট কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি না হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিমাতা সূলভ আচরন করা হয়। শিক্ষার্থীদের মতে স্কুল কলেজে লেখা পড়া সঠিক ভাবে হয় না বলে এক রকম বাধ্য হয়েই কোচিং এ ভর্তি হতে হয়।

জানা গেছে, উপজেলায় ৬০টি মাধ্যমিক,৭০টি মাদরাসা ও ১২টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে এর বিপরিতে কোচিং সেন্টার অথবা কোচিং স্কুল রয়েছে প্রায় ৪০টির অধিক। উল্ল্যেখযোগ্য কোচিং স্কুল গুলো হচ্ছে প্রেরনা কোচিং সেন্টার, সামিট কোচিং সেন্টার,প্যারাগন কোচিং সেন্টার, ইউনিক কোচিং সেন্টার, এ্যাডভান্স কোচিং সেন্টার, দ্যা চ্যালেঞ্জ কোচিং সেন্টার, এ্যাম্বিশ্বাস কোচিং সেন্টার,এম এ মডেল কোচিং সেন্টার, অলিপুর কোচিং সেন্টার, স্কাছেস কোচিং সেন্টার, ব্রাইট শিক্ষা নিকেতন, নিউক্লিয়ার্স কোচিং সেন্টার, অরবিট কোচিং সেন্টার, মেরিট কেয়ার স্কুল, স্কয়ার কিন্ডার গার্টেন, স্কোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আশরাফ কোচিং সেন্টার, প্রত্যাশা কোচিং সেন্টার, শতদল কিন্ডার গার্টেন, উলিপুর কিন্ডার গার্টেন, কিশোরপুর কিন্ডার গার্টেন, উমানন্দ কিন্ডার গার্টেন, জুম্মাহাট কিন্ডার গার্টেন, ষ্ট্যান্ডাট কোচিং সেন্টার, ক্ল্যাসিক কোচিং সেন্টার ও মর্ডান ইসলামিক প্রি-ক্যাডেট স্কুল।

এন এস আমিন রেসিডেন্টসিয়াল স্কুলের উপ পরিচালক যতিন্দ্র নাথ বর্ম্মন জানান, স্কুলে সঠিক ভাবে পড়াশুনা হলে কোন শিক্ষার্থী কোচিং এ ভর্তি হতে পারে না। এছাড়া আইন থাকলেও স্কুল সময়ে কোচিং গুলো চলানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এমএস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীরা নাস্তা করে সকাল ৭ টায় কোচিং এ আসে এরপর বিদ্যালয়ে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সে কারণে টিফিনের পর অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ে।

গুনাইগাছ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম হোসেন জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ কোচিং নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। গুনাইগাছ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির নাজমুল ইসলাম, ৮ম শ্রেণির লাবিব আহম্মেদ, আল সিফাত আনসারি ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ সরকার ও মঞ্জু মিয়া জানায়, বিদ্যালয়ে ৩/৪টি ক্লাস হওয়ার পর শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে যায়, পরে আর ক্লাস হয় না তাই তারা বাধ্য হয়ে কোচিং এ ক্লাশ করে ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব বলেন, সরকারি নির্দেশনা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জানানো হয়েছে, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কোচিং চালানো যাবে না। তারপরও এ রকম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য