মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরীসহ দু’জনকে হত্যা ঘটনার এখনও কোন মোটিভ খুঁজে পায়নি পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাদেরীয়া মোহাম্মদিয়া খানকা শরিফের খাদেম সাইদুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। খোজা হচ্ছে পালিত মেয়ে গৃহপরিচারিকা রুপালী বেগমের স্বামী সিরাজুল ইসলামকে।

এদিকে ঘটনা তদন্তে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহফুজ জামান আশরাফকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিজানুর রহমান, কাহারোল সার্কেল অফিসার রুহুল আমিন, বোচাগঞ্জ থানার ওসি আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ডিবির এসআই বজলুর রশিদ ও ফরিদ হোসেন।

বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, জোড়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর আগাইটা পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি জানান।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, এই ঘটনায় কোনও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি শত্রুতামূলকভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে কিনা সেটাও দেখছে পুলিশ। এক কথায় সব দিক মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব হত্যাকান্ডের মটিভ উদ্ধার করা হবে।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মালেক হোসেন জানান, নিহত কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী দিনাজপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। তার বাড়ি দৌলা গ্রামে। নিহত রুপালী বেগম মাধবপুর গ্রামের হসের আলীর মেয়ে এবং ফরহাদ হাসান চৌধুরীর পালিত মেয়ে।

দরবার শরীফের মুরিদ জনি জানান, সোমবার রাত ৯ টার দিকে দরবার শরীফে এসে তারা দেখেন বাবা ফরহাদ  হোসেন চৌধুরী বিছানায় শুয়ে আছেন। এরপর তাকে ডাকতে গিয়ে বিছানায় এবং শরীরে রক্তের চিহ্ন দেখে তারা নিশ্চিত হন যে, কে বা কারা তাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসী জানান, ২০১০ সালে কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন ফরহাদ হোসেন চৌধুরী। এরপর তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসেন। তিনি নিজেকে পীর বলে দাবি করেন। খানকা শরীফে অসংখ্য মুরিদ ও ভক্ত নিয়মিত মাহফিল ও ধর্মীয় আলাপ-আলোচনা করতেন, যারা সবাই ফরহাদ হোসেন চৌধুরীকে বাবা বলে ডাকতেন। ঘটনার তিনদিন আগে নিহত রূপালী বেগমের বিয়ে হয় সিরাজগঞ্জ থেকে আগত সিরাজুল ইসলাম নামে এক কথিত মুরিদের সঙ্গে। তবে ঘটনার পর থেকে সিরাজুল ইসলাম নিখোঁজ রয়েছেন।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ মার্চ) রাত ৯ টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা এলাকায় কথিত পীর ফরহাদ হোসেন  চৌধুরী ও তার পালিত মেয়ে  গৃহপরিচারিকা রুপালী বেগমকে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য