বিরল (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ লিচুর রাজ্য দিনাজপুরের বিরলে এবারও বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখা দেয়ায় দিন দিন লিচু চাষ বাড়ছে। জেলার প্রতিটি লিচু গাছে শোভা পাচ্ছে সোনালী মুকুল। প্রতিটি গাছে মুকুল থেকে থোকায় থোকায় লিচু আসতে শুরু করেছে। ফলে এবার মধু মাসের ফল লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

লিচু চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর দিনাজপুরের লিচু দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এবার পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে লিচু রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লিচু লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় প্রতি বছরই জেলাতে লিচু চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবারও দিনাজপুরে রেকর্ড পরিমাণ লিচুর ফলন হবে বলে তাদের আশা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়, এবার দিনাজপুর জেলায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, চলতি বছর দিনাজপুর জেলায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দিনাজপুরের লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপি এর চাহিদা রয়েছে। এবার দিনাজপুরের লিচু পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে রফতানি করা হবে। দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই ও মাদ্রাজি, কাঠালী উল্লে¬খযোগ্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে এবার এসব প্রজাতির লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষীরা। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুরের প্রতিটি বাড়ির বসত ভিটায় বা আঙ্গিনার লিচু গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে।

মুকুলের সঙ্গে ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার ঝিঁ ঝিঁ শব্দে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে। লিচু বাগানগুলোতে ফুল আসা থেকে লিচু আরোহণ পর্যন্ত ৩-৪ মাস লিচু বাগানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফুল আসার ১৫ দিন আগে এবং ফুল আসার ১৫ দিন পরে সেচ দিতে হয়। সেই অনুযায়ী গাছে মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গেই মুকুলকে টিকিয়ে রাখতে লিচু চাষী ও ব্যবসায়ীরা স্প্রে করে চলছে। এছাড়াও মুকুল যাতে ঝড়ে না পড়ে সেজন্য গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি ও সার দিয়ে যাচ্ছে। দিনাজপুরের যেসব স্থানে লিচু চাষ হয় তার মধ্যে সদরের মাসিমপুর, বিরলের মাধববাটী। বিরল উপজেলার মাধববাটী দিনাজপুর সদর থেকে প্রায় ৯ কি.মি. পশ্চিমে এবং মাসিমপুর সদর উপজেলা থেকে প্রায় ২ কি.মি. পূর্ব দিকে অবস্থিত।

লিচু চাষীরা জানান, লিচুর ফুল আসা শুরু করার সঙ্গেই শুরু করে দিতে হয় পরিচর্যা। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেয়া শুরু হয়েছে। লিচু গাছগুলোতে ফুল আসতেই রাজশাহী, রংপুর, চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার লিচু ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। তারা আগাম লিচু বাগান ক্রয় করছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সাফয়েত হোসেন জানান, কৃষি কর্মকর্তারা চাষীদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কোন সময়ে কোন কীটনাশক, বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত সে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য