মসুলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে ইরাকি বাহিনীর অভিযানে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের আোতায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। মানবাধিকার বিষয়ক সমন্বয়ক লিসা গ্রান্দে বলেছেন, সত্যিই যদিত মসুলে রাসায়নিক হামলা হয়ে থাকে, তবে তা যুদ্ধাপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

গত শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরাকের মসুলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে ইরাকি বাহিনীর লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।  জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইরাকের মসুলে সম্ভাব্য রাসায়নিক হামলার শিকার হয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত শনিবার জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, তারা মসুলে চিকিৎসার জন্য জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। যারা রাসায়নিক হামলার শিকার হয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য যেন দ্রুত সাড়া দেওয়া হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাসায়নিক এজেন্ট আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের সমস্যায় ভুগছে ১১ বছরের একটি ছেলে। আহত হয়েছে একমাসের শিশুও। রেডক্রস জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টার লড়াইয়ে রাসায়নিক অস্ত্র হামলায় আহত ৫ শিশু এবং দুই নারীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের চামড়ায় ফোসকা পড়াসহ চোখ লাল হয়ে হয়ে গেছে, তারা বমি করছে এবং কাশছে।

এই বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সমন্বয়ক লিসা গ্রান্দে। তিনি বলেন, এটা সত্যিই খুব মারাত্মক। যদি সত্যিই রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া যায় তবে এটা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন পরিপন্থী ও যুদ্ধাপরাধের সামিল। হামলাকারী কে সেটা বড় বিষয় না। জাতিসংঘ জানায়, অসুস্থ ১২জনই ১ মার্চ চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।

এদের মধ্যে চারজন রাসায়নিক অস্ত্র হামলার ফলে যে সব লক্ষণ দেখা দেয় সেই রোগে ভুগছেন। মসুলের পূর্বাঞ্চলের কোথাও তারা হামলার শিকার হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। আল-জাজিরার স্টেফানি ডেকার বলেন, ‘আমি ৮-৯ বছরের এক ছেলেকে দেখলাম যার পুরো শরীরে পোড়া দাগ। হাসপাতালের ম্যানেজার জানান, এই রোগীরা এমন চিহ্ন নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এগুলো কেমিক্যাল গ্যাসের লক্ষণ।’

হাসপাতালের ম্যানজার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। শুক্রবার আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি জানায়, রাসায়নিক অস্ত্র হামলায় পাঁচ শিশু ও দুই নারী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ঠিক কারা এই হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি তারা। ১০০ দিনের চেষ্টার পর জানুয়ারিতে মসুলের পূর্বাঞ্চল পুনরুদ্ধার করে ইরাকি বাহিনী।

১৯ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমাঞ্চলেও হামলা চালায় তারা। পূর্বাঞ্চলেল কিছু অংশ এখনো আইএসের রকেট ও মর্টারের সীমানায় রয়েছে। মসুল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে আইএস দমন করবে ইরাক। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে অগণিত ক্ষতি হয়েছে দেশটির। যুদ্ধে মসুল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে হাজারো মানুষ। এরই মাঝে রাসায়নিক অস্ত্র হামলার কথা জানা গেল। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী জসিম মোহাম্মদ আল-জাফ। তিনি বাস্তুহারাদের সাহায্যের ব্যাপারে জাতিসংঘের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভঅবে জাতিসংঘ তাদের কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা অনেক কথা বলেন কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন খুবই সামান্য। জাতিসংঘ অবশ্য দাবি করছে, তারা বাস্তুহারাদের সাহায্য করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। মসুলে যুদ্ধের পর থেকেই তারা খাবার ও আশ্রয় দিচ্ছে বলে জানায়।

লিসা গ্রান্দ বলেন, ‘আমাদের প্রথম টার্গেট বেসামরিক নাগরিক যারা পালিয়ে আসছেন তাদের জন্য পর্যাপ্ত থাকার জায়গা আছে কিনা। গত কয়েকদিন ধরে আমরা এই অস্থায়ী আশ্রয় তৈরিতেই হিমশিম খাচ্ছি।’ সূত্র: আল-জাজিরা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য