গোলা ভরা ধান,গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ এ তিনে মিলে এলাকার মানুষের জীবন যাত্রা প্রান সঞ্চালন ঘটলেও দিন দিন অনেক কিছু কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলের চীর পরিচিত নানা প্রজাতির দেশীয় প্রজাতির মাছের আকাল এখন উপজেলার সর্বত্র। নদী নালা খাল বিল পুকুর ডোবা সহ মুক্ত জলাশয় গুলো মারাত্বক ভাবে দেশী মাছ শুন্য হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানাগেছে, জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়,কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার,অপরিমিত কিটনাশক ব্যবহার,জলাশয় দুষন,নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস,উজানে বাধঁ নির্মাণ,নদী সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া,ডোবা জলাশয় ভরাট করা,মা মাছের আবাস স্থলের অভাব,মা মাছ ডিম ছাড়ার আগেই ধরে ফেলা,ডোবা নালা ছেকে মাছ ধরা,নদী নালায় বানা দিয়ে মাছ ধরা,বিদেশী আগ্রাসী রাক্ষুসে মাছের চাষ ও প্রজননে ব্যঘাত ঘটার কারণে কাউনিয়ায় অসংখ্য ডোবা-নালা থাকার পরও ৪১ প্রজাতির দেশী মাছ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।

অস্তিত্ব সংকটে মাছ গুলোর মধ্যে রয়েছে কৈ,মাগুর,শিং,পাবদা,টেংরা,চেলা,পুটি,ডারকা,মলা,ঢেলা,চেলা,কর্তি, চাপিলা,শাল,চোপরা শৌল, বোয়াল, আইর,ভেদা,বুড়াল,বাইম,খলিশা, ফলি,চিংড়ি,মালান্দা, খরকাটি, গজার,শবেদা, চেং,টাকি, চিতল, গতা, পয়া,বালিয়া,উপর চউকা,কাকিলা সহ প্রায় ৪১ প্রজাতির মাছ। গ্রামাঞ্চলের হাট বাজার গুলোতে এসব মাছ আগের মতো চোখে পরে না।

হাট বাজার গুলোতে দেশীয় মাছের আমদানি একেবারেই কমেগেছে। একসময় ছিল এ অঞ্চলের মানুষ ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা বানিয়ে ঝাকি বা মুঠো জাল,বড়শি দিয়ে প্রচুর পরিমানে দেশী মাছ ধরতো। নিজের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ বাজারে বিক্রয় করে তাদের সংসার চালাতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে জন সচেতনতার আর সরকারী নজরদারীর অভাবে এসব মাছ আর চোখে পড়ে না। বর্তমানে নদী নালা খাল বিলে পানি না থাকায় এসব প্রজাতির মাছ বংশ বিস্তার করতে পাচ্ছে না।

ফলে মৎস্য ভান্ডার নামে খ্যাত কাউনিয়ায় দেশীয় মাছের আকাল বিরাজ করছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জয় ব্যানার্জী জানান,কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার,কারেন্ট জালের ছড়া-ছড়ি ও মা মাছের অভয়াশ্রম গুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেশী মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। এলাকার মানুষ সচেতন হলে আবার দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য