সিরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলা পশ্চিমা একটি প্রস্তাবে চীন এবং রাশিয়া যৌথভাবে ভেটো দিয়েছে। এছাড়া, প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া।

আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তোলা এ প্রস্তাবের ওপর ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল কাজাখস্তান, ইথিওপিয়া এবং মিশর। প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছে নয়টি ভোট যা নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ভোট।

সিরিয়ার সরকারি সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ তুলে দামেস্ক সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছিল এ প্রস্তাবে। আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এ প্রস্তাবে খসড়া তৈরি করেছিল। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হতে হলে পক্ষে কমপক্ষে নয়টি ভোট পড়তে হবে এবং বিপক্ষে কোনো ভেটো ক্ষমতাধর দেশের ভোট থাকতে পারবে না।

রাশিয়া এ নিয়ে সিরিয়া ইস্যুতে সাতবার নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে ভেটো দিল আর চীন ভেটো দিয়েছে ছয়বার। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলা নতুন এ প্রস্তাবটি পাস হলে সিরিয়ার ১১ ব্যক্তি প্রধানত সামরিক কমান্ডার ও ১০টি প্রতিষ্ঠানকে রাসায়নিক হামলার দায়ে কালো তালিকাভুক্ত করা হতো। এছাড়া সিরিয়াকে হেলিকপ্টার সরবরাহ করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো।

এর আগে, মঙ্গলবার দিনে প্রথম ভাগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তৈরি করা প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছিলেন, সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে তার দেশ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হতে দেবে না। তিনি এ প্রস্তাবকে “অনুপযুক্ত” বলে মন্তব্য করেন। তবে প্রস্তাব পাসে ব্যর্থ হওয়ার পর জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, এ প্রস্তাব সঠিক ও উপযুক্ত ছিল।

সিরিয়ার সরকার সবসময় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে এসেছে। দেশটি বলছে, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে রাসায়নিক অস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং তারাই এসব হামলা চালিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য