তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির নায্য হিস্যার দাবিতে নীলফামারীতে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘তিস্তা ও কৃষি বাঁচাও আন্দোলন এবং বাসদ (মাকর্সবাদী) নীলফামারী জেলা শাখার যৌথ আয়োজনে নীলফামারী টাউন ক্লাব মিলনায়তনে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিস্তা ও কৃষি বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠক অধ্যাপক তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, জল-পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম.ইনামুল হক, রিভারাইন পিপলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব শেখ রোকন, বাংলাদেশ শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আ.ক.ম জহিরুল ইসলাম, উদীচী শিল্পি গোষ্ঠির নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আবুল মনসুর ফকির প্রমুখ।
শুভ্রাংশু চক্রবর্তী তার বক্তব্যে বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি নীতি লঙ্ঘন করে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম তিস্তা নদীকে শুকিয়ে মারছে। উজানে ২৭টি বাধ নির্মাণ করে তিস্তা নদীকে ২৭ টুকরা করে তারা নিজেদের দেশের রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে পানি নিয়ে যাচ্ছেন।  তাদের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারনে আমাদের দেশে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কৃষি, কয়েক হাজার মাঝি ও মৎসজীবী পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে হাহাকার। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই, তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির নায্য হিস্যা চাই।
জল-পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম.ইনামুল হক তার বক্তব্যে বলেন, এক সময়ে শুস্ক মৌসুমে তিস্তায় ১৪ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতো। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারে ফলে নেমে আসে চার হাজার কিউসেকে। এখন তা নেমে এসেছে আড়াইশ থেকে তিনশত কিউসেকে। এতে করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আমাদের দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যরাজ। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশের ক্ষমতাসীনদের নতজানু নীতির কারনে ভারত একতরফা ভাবে পানি প্রত্যাহারে সফল হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য