মোঃ আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল থেকেঃ  পঙ্গুত্ত্ব হার মানাতে পারেনি রাণীশংকৈলের জয়নাল (৩৫)কে। সেলাই মেশিনের কাজ করে স্বাচ্ছন্দে চলে বাবা মায়ের সংসার। ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ধর্মগড়’র চেংমারী গ্রাম। নিতান্তই দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ। চেংমারী নয়াবস্তি গ্রামে বাবা কফিলউদ্দিন(৬৭)’র বসতভিটা ছাড়া আর কোন জায়গা জমি নেই।

বয়সের ভারে অনেকটায় কর্মক্ষম হয়ে পড়ছে দিন দিন। পরিবারে স্ত্রী, ৩ ছেলে আর ২ মেয়ের সংসার। দুই মেয়ের স্বামী সংসার হয়েছে। ছেলে-মেয়ের মধ্যে জয়নাল সবচেয়ে বড়। ছোট বেলায় পুকুরে গোসল করার সময় পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের লোকজন জানতে পেরে পানি থেকে উঠিয়ে চিকিৎসার ফলে প্রাণে বাঁচলেও পঙ্গুত্ব যেন জীবন সঙ্গী হয়ে পড়েছে। তার দুই পা দুই হাতের স্বাভাবিকতা হারিয়েছে। সংসারের অভাব অনটন আর শারীরিক অস্বাভাবিকতার জন্য পড়ালেখা করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

সংসারের অভাব দুর করতে আয় রোজগারের পথ বেছে নেয় সে। প্রায় ১৫ বছর বয়সে কাউন্সিল বাজারে মনতাজ দর্জির দোকানে সেলাই মেশিনের কাজ শিখা শুরু করে। প্রতিবন্ধি ছেলেকে কাজ শিখাতে কিছু টাকা পয়সা নেয় দোকান মালিক। টাকা দিতে তার অনেক কষ্ট হয়েছিল। কারণ দিনমজুর খেটে খাওয়া অভাবি বাবার পক্ষে সে টাকা জোগাড় করা খুব কষ্টকর ছিল আর হয়েছেও তাই। শারীরিক সক্ষমতা স্বাভাবিক না থাকায় অনেক কষ্টে সেলাই মেশিন চালাচ্ছে।

তাতে বিরক্তির কোন ছাপ নেয় তার কপালে। খুব সহজ ভাবেই এ কাজকে মেনে নিয়েছে সংসারের অভাব দেখে। সংসারের খরচ যোগান দিতে পারছে বলে নিজেকে তার খুব ভাল লাগছে মুচকি হেসে বলে এমনি কথা হয় জয়নালের সাথে। কাউন্সিল বাজারে নুর জামাল দর্জির দোকানে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করছে। দৈনিক দেড় থেকে দুই শত টাকা রোজগার হয়। ১৫ বছর বয়স থেকে সেলাইয়ের কাজ করে আসছে।

প্রতি মাসে প্রায় হাজার পাঁচেক টাকা রোজগার করতে পেরে স্বস্তি বোধ করছে। শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে হয়তো সে আরো আয় রোজগার করতে পারতো। বাবা-মার অভাবি সংসারে সহযোগিতা করতে পারছে বলে নিজেকে খুব ভাল লাগছে তার।

দোকান মালিক নুর জামাল বলেন, জয়নাল ভাল ছেলে। শারীরিক অক্ষমা থাকলেও তার মনোবল অনেক। যা আয় রোজগার করে তাতে তাদের সংসার চলে যায়। তার দিকে দেখে বিপথগামি বেকার যুবকদের সু-শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য