muktiসৈয়দ শিমুল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যৌবনের দুরন্ত সময়ে দেশ-মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্র“দের কবল থেকে দেশ স্বাধীন করলেও ৬৬ বছর বয়সেও বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহমান জীবিকার তাগিদে হাতে তুলে নিয়েছেন চায়ের কেতলী।

বিরামপুর পৌর শহরের মির্জাপুর মহল্লার মৃতঃ লাল ফকিরের পুত্র ২৫ বছরের টগবগে যুবক আঃ রহমান ৭১-এ পাক হানাদারের বর্বরতায় চুপ থাকতে পারেননি। নববধু কে ছেড়ে দেশ-মাতৃকার লাখ মানুষের মুক্তির জন্যই তিনি ছুটে যান প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে। ভারতের ৭নং তরঙ্গপুর সেক্টর থেকে প্রশিক্ষণ শেষে আঃ রহমান (এফএফ নং-৩৮১৯) বিরামপুর এলাকার ৭নং সেক্টরে কমান্ডার নুরুজ্জামান ও ডেপুটি কমান্ডার শহীদ মোস্তফা কামালের সহযোদ্ধা হিসাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

১৯৭১ সালের আগষ্ট মাসে যুদ্ধ চলাকালীন কাটলায় খান সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তার সহযোদ্ধা আঃ খালেক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার দল কুখ্যাত রাজাকার ইলি হাজীর বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাকে বিতাড়িত করে এবং নবাবগঞ্জের ভাদুরিয়া ব্রীজ উড়িয়ে দিয়ে বিরামপুরের সাথে খান সেনাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সহ উপর্যুপরি আক্রমণ চালিয়ে হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করেন ০৬ ডিসেম্বর বিরামপুরের মানুষ শত্র“মুক্ত হয়।

স্বাধীন দেশে হাতের রাইফেল ফেলে আঃ রহমান জীবিকার তাগিদে প্রথমে শক্ত হাতে ধরেন রিক্সার হ্যান্ডেল। বয়স বৃদ্ধির কারণে রিক্সা চালাতে না পেরে জীবিকার তাগিদে হাতে তুলে নিয়েছেন চায়ের কেতলী। আঃ রহমান বিরামপুরের মির্জাপুর মোড়ে (সড়ক সংলগ্ন) একটি চায়ের দোকান দিয়েছে। সারাদিন বেচা-কেনা করে যেটুকু উপার্জন করেন তা দিয়ে সংসার চালানো দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। স্ত্রী, ২ পুত্র ও ৩ কন্যার মধ্যে  মেয়ে ও ১ ছেলের বিয়েও দিয়েছেন।

ছেলে এখন বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ীতে থাকে কোন খচর-পত্র দেয় না। ছোট মেয়ে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট দুই ছেলে পড়াশুনা করে না। নিজের কোন জমি জমা নেই। শুধু আছে ওয়াক’ফ সম্পত্তির উপর মাথা গোজার ঠাঁই। বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহমান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হয়ে আজ আমাকে  চা বিক্রি করতে হচ্ছে।

সরকার  মাসে যে ভাতা দেয় তা দিয়ে সংসার চালানো র্দূ’সাধ্য হয়ে উঠেছে। তাই জীবিকার তাগিদে ৬৬ বছর বয়সেও  হাতে তুলে নিয়েছি চায়ের কেতলী। কিন্তু, অসম এই মুক্তিযোদ্ধার বীরত্ব গাঁথা জানা না থাকায় নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহমান জীবনের পড়ন্ত বেলায় মানুষের একটু সমীহ পাওয়ার আশায় চা বিক্রি করেই অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য