ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের তিব্র আকারে দেখা দিয়েছে, শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকট। ৪৯টি শিক্ষক পদের মধ্যে ২৬টিই শূন্য। ২ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নেন মাত্র ২৬ জন শিক্ষক।

কলেজটি জাতীয় করনের ২৭ বছর কেটে গেলেও এখনো নির্ম্মান হয়নি বিজ্ঞান ভবন ও ছাত্রী নিবাস। ২টি ছাত্র নিবাস প্রয়োজন হলেও, কলেজটি পুরাতন ভবনটিকে ছাত্র নিবাস হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ২১টি ক্লাস কক্ষের প্রয়োজন হলেও আছে মাত্র ৯টি। ফলে শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটে পড়ে আছে , দিনাজপুর জেলার পুর্ব-দক্ষিনাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলবাড়ী সরকারী কলেজ।

ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অর্চনা অধিকারী বলেন, বর্তমানে এই কলেজে, বাংলা, ইংরাজি, রসায়ন, গণিত,দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান ছয়টি বিষয়ে অর্নাস চালু আছে, এই কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে বাংলা বিষয়ে চার জন শিক্ষকের মধ্যে কর্মরত আছে তিন জন। ইংরাজি বিষয়ে চার জনের মধ্যে আছে তিন জন, পদার্থ বিষয়ে চার জনের মধ্যে আছে মাত্র এক জন, রসায়ন বিষয়ে চার জনের মধ্যে তিন জন, গণিত বিষয়ে চার জনের মধ্যে আছে তিন জন, প্রাণি বিজ্ঞানে  তিন জনের মধ্যে আছে একজন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে চার জনের মধ্যে আছে এক জন, দর্শন বিষয়ে চার জনের মধ্যে আছে  এক জন, ইসলামিক ইতিহাসে চার জনের মধ্যে আছে দুই জন, ইতিহাসে তিন জনের মধ্যে আছে একজন, অর্থনীতিতে তিন জনের মধ্যে আছে একজন, হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে দুই জনের মধ্যে আছে এক জন, মার্কেটিং, ব্যবস্থাপনা ফিন্যাস ও ব্যংকিং বিষয়ে কোন শিক্ষক নাই। এছাড়া পদার্থ,রসায়ন, প্রানি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিষয়ে চার জন প্রদর্শকের পদ তাকলেও কর্মরত আছে প্রানি বিজ্ঞান পদে একজন। অপরদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর ২২ জন পদের মধ্যে কর্মরত আছে মাত্র চার জন।

প্রফেসর অর্চনা অধিকারী আরো বলেন, ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের জায়গা আছে প্রায় ২০ একর। যেখানে অবকাঠামো গড়ে উঠা সহজ, কিন্তু আজো গড়ে উঠেনি। এখানে যেমন ছাত্র-ছাত্রী নিবাস নাই তেমনি শিক্ষক নিবাস নাই, শিক্ষক নিবাস, আবাসীক  না থাকায় বাহিরের শিক্ষকেরা পরিবার নিয়ে বসবাস করতে পারেনা, যার ফলে এখানকার শিক্ষকেরা বদলী নিয়ে অনাত্র চলে যাওয়ার চেষ্ঠা করে।

ফুলবাড়ী রাজারামপুর গ্রামের সমাজসেবক বলে পরিচিত মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, বলেন, ফুলবাড়ীসহ আশপাশের শিক্ষার্থীরা যাতে বাড়ী থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে পারে, সেজন্য ১৯৬৩ সালে তৎকালিন জাতীয় পরিষদ সদস্য, তার পিতা নুরুল হুদা চৌধুরী, সেই সময়ের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বদের সাথে নিয়ে, ফুলবাড়ী পৌর শহরের সুজাপুর মৌজায় ছোট যমুনা নদির ধারে ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজটি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট উপজেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে, ফলে কলেজটির গরুত্ব বিবেচনা করে ১৯৮৯ সালে এই কলেজটি জাতীয় করনে করা হয়। বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি, সাবেক মন্ত্রী হাজী মন্সুর আলী সরকার, সাবেক বিডিআর ডিজি মোস্তাফিজুর রহমান ফজলু, সাবেক অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শক পুলিশ মোস্তাফিজুর রহমান মন্টু, এই কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহন করেছে। এছাড়া এই কলেজটি থেকে নেতৃত্ব দেয়াহত রাজনৈতিক অঙ্গনের, এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব উঠেছিল এই কলেজ ছাত্র সংসদ থেকে। এই কারনে এই কলেজটি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশা-পাশি ঐতিহাসীক নিদর্শনও বহন করে আসচ্ছে।

কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ও এলাকাবীরদাবী, কলেজটির অবকাঠামো উন্নায়ন করে, কলেজটিতে সকল বিষয়ে অর্নাস ও মাস্টার্স কোচ চালু করা। তারা বলেন এই কলেজটিতে সকল বিষয়ে অর্নাস ও মাষ্টার্স কোচ চালু করা হলে, এই অঞ্চলের গরিব মেধাবী শির্ক্ষাথীরা বাড়ীর ভাত খেয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে পারবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য