আফগানিস্তানে ব্যাপক তুষারপাতে ও তুষারধসে অন্তত ১০৬ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাটি ঘটেছে রোববার উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের নুরিস্তান প্রদেশের দুইটি গ্রামে, এখানে তুষারধসে দুটি গ্রাম পুরোপুরি চাপা পড়ে অন্তত ৫৩ জন নিহত ও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, নুরিস্তানের গভর্নর হাফিজ আব্দুল কাইয়ুমের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।

আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মন্ত্রী ওয়াইস আহমদে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া নুরিস্তানের অন্যান্য জায়গায় তুষারের চাপে ছাদ ধসে আরো অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তুষার ঝড়ে পাশ্ববর্তী পর্বতময় বাদাখশান প্রদেশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাদাখশান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র নাভিদ ফ্রোতান জানিয়েছেন, শনি ও রোববার এ দুইদিনে তুষারধস, ছাদ ধসে ও গাড়ি দুর্ঘটনায় এখানে ১৯ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন।

প্রদেশটির অন্তত ১২টি জেলার সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সেখানে পৌঁছানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে ও তুষারধসে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকে পড়া লোকজনের কাছে পৌঁছতে উদ্ধারকারীদের বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য খলিলুল্লাহ। দুর্গত স্থান থেকে লোকজনকে উদ্ধার ও সেখানে ত্রাণ পৌঁছাতে দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ব্যাপক তুষারপাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলও ভারী তুষারের চাদরে ঢাকা পড়েছে। এ কারণে রোববার সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় দেশটির সরকার। রানওয়েতে তুষার ও বরফ জমায় কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।

গজনি প্রদেশের মুখপাত্র জাভিদ সালাঙ্গি জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় দুই মিটারে মতো তুষারপাত হয়েছে, কাবুল-কান্দাহার সড়কে আটকে পড়া ২৫০টি গাড়ি ও বাস উদ্ধার করেছে পুলিশ ও সেনারা।

কাবুলের উত্তরে সালাঙ্গ গিরিপথ আড়াই মিটার তুষারের নিচে চাপা পড়ায় তা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা রজ্জব সালাঙ্গি।

এখানে শীতে জমে অন্তত দুজন চালকের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় খাবারও নেই।

দেশজুড়ে আরো তুষারপাত ও তুষার ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য