ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া দেশগুলোতে জন্মগ্রহণ করা ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাধা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে যারা দ্বৈত নাগরিক তারা যদি নিষিদ্ধ ঘোষিত সাত দেশ ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, সুদান ও ইয়েমেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন তবে তাদের বাড়তি নিরাপত্তা তল্লাশির মুখে পড়তে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসন সীমিত করতে শুক্রবার ট্রাম্পের সাক্ষরিত আদেশের ফলে আগামী চার মাস আর কোনও শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। সিরীয় শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত।

দ্বৈত-নাগরিক এবং গ্রিনকার্ড হোল্ডাররাও (যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি) এই আদেশের আওতায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল‌্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট।

ট্রাম্পের ওই আদেশের পরপরই বৈধ ভিসা থাকার পরও বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে উপরের সাত দেশের নাগরিকদের আটকে দেওয়া শুরু হয়।

বিবিসি জানায়, ওই আদেশের পর যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

তার আগে নিজের প্রতিক্রিয়ায় এ বিষয়ে টুইটারে জনসন বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে মানুষকে কলঙ্কিত করা ‘বিভেদজনক এবং ভুল’।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নাগরিক পরামর্শে বলা হয়:

· যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শুধুমাত্র নিষিদ্ধ ঘোষিত সাত দেশে থেকে ভ্রমণ করা ব্যক্তিদের উপর কার্যকর হবে।

· ওই সাত দেশ ছাড়া অন্য যে কোনো দেশ এমনকি যুক্তরাজ্য থেকেও যদি আপনি যুক্তরাষ্ট্রে যান তবে আপনার উপর ওই আদেশ কার্যকর হবে না। এমনকি আপনার জাতীয়তা বা জন্মস্থানের কারণে আপনাকে বাড়তি তল্লাশির মুখে পড়তে হবে না।

· যদি আপনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক হন এবং নিষিদ্ধ সাত দেশের কোনো একটি আপনার জন্মভূমি হয়; তারপরও ওই সাত দেশের কোনোটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আপনার উপর ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কার্যকর হবে না।

· যদি আপনি দ্বৈত নাগরিক (ওই সাত দেশের) হন এবং  নিষিদ্ধ সাত দেশের বাইরে কোনো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যান তবেও আপনার উপর ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কার্যকর হবে না।

· শুধুমাত্র যদি আপনি দ্বৈত নাগরিক (ওই সাত দেশের) হন এবং নিষিদ্ধ সাত দেশের কোনো একটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যান তবে আপনাকে বাড়তি তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। যেমন: যদি আপনি লিবিয়া বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের নাগরিক হন এবং লিবিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র যেতে চান তবে।

যুক্তরাজ্য থেকে যাওয়া সব ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ‘দ্রুততার সঙ্গে’ শেষে করার প্রতিশ্রুতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা পুনর্নিশ্চয়তা দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য