বলিউড দম্পতি সাইফ-কারিনার সন্তান তৈমুর আলি খান পতৌদি নামের জন্য এখন ভারতের সবচেয়ে আলোচিত শিশুদের একজন! তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠও উত্তপ্ত হয়। এবার সন্তান জন্মের প্রায় এক মাস পর ওই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন বাবা সাইফ আলি খান।

ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করতে পছন্দ করা সাইফ বলেন, ‘তিনি ভালভাবে জানেন, তৈমুর লংয়ের কথা। কিন্তু তার যুক্তি, শাসক তৈমুরের নামের উচ্চারণ ছিল তিমুর, তার ছেলে তৈমুর- দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। তার বক্তব্য, তৈমুর প্রাচীন ফার্সি শব্দ, এর অর্থ লোহা।

সাইফ আরও বলেন, ‘সম্ভবত ছবির মতো আমার ছেলের নামকরণের সময়েও ডিসক্লেমার দেওয়া উচিত ছিল, জীবিত বা মৃত কারও সঙ্গে এই নামের সাদৃশ্য থাকলে তা কাকতালীয় ছাড়া আর কিছু নয়!’

তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোকজন নিজের মত প্রকাশ করে, কখনও কখনও বাড়াবাড়ি করে ফেলে। ২০/৩০/৪০ বছর আগেও লোকজন যে এভাবে ভাবতো না, তা নয়। তবে তা প্রকাশের উপায় ছিল না।

ভারতীয় সমাজ এখনও যথেষ্ট উদার, তারকারা এখানে আলাদা সম্মান পান। তাই লোকে যাই বলুক, আমি উদ্বিগ্ন নই, তাদের বলার অধিকারের প্রতিও আমি সম্মান জানাই। তিনি উগ্র ডানপন্থীদেরও একহাত নিয়েছেন। সাইফ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘লোকজন বলাবলি করছে, আমাদের দেশ নাকি ধীরে ধীরে ডানপন্থী ও ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠছে।

আর আমাদের সামনে এ ভয়ও রয়েছে। কিন্তু তৈমুরকে নিয়ে এক অপ্রয়োজনীয় নাটক হলো। এসব নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইনি। আমি মনে করি, এখানে আমার কিছুই বলার নেই। কারণ, অনেকেই বিষয়টি নিয়ে বিচক্ষণভাবে খোলাখুলি কথা বলেছেন। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে কিছু মানুষ নামকরণ নিয়ে বিরোধিতা করেছেন, সেটা তারা করেছেন শুধু মধ্যযুগের ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে।

এটা আমার কাছে হাস্যকর, আর তা আমার পক্ষ থেকে অনেকেই বলেছেন। আমি মনে করি, আমরা ডানপন্থী সমাজে বসবাস করি না। এখনো এমন অবস্থা দাঁড়ায়নি। এখনও ভারত উদার, আর এ দেশের মানুষ এখনও মুক্তমনের অধিকারী। সাইফ জানান, কারিনা ও তিনি ‘তৈমুর’ নামটি পছন্দ করেছেন বলেই ছেলের এমন নাম রেখেছেন।

উল্লেখ্য, ২০ ডিসেম্বর সকালে ভারতের মুম্বাই শহরের একটি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করে তৈমুর। সঙ্গে সঙ্গেই বাবা সাইফ ও মা কারিনা একটি লিখিত বিবৃতিতে ছেলের জন্মের খবর সবাইকে জানান। তবে ছেলের নাম রাখা নিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন এই দম্পতি।

সাইফিনা দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘দুর্র্ধষ স্বৈরাচারী’ শাসক তৈমুর লংয়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম রেখেছেন তারা। বর্তমান আফগানিস্তান, ইরান, সিরিয়া, বাগদাদ ও জর্জিয়ার এক বিরাট অংশে সা¤্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন তৈমুর লং।

অপরদিকে, তৈমুর নামটির সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস ভীষণভাবে জড়িত। তার বংশধর হলো তিন শতাব্দী ধরে ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করা মুঘল সা¤্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর। অভিযোগ রয়েছে, ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে দিল্লি দখলের অভিযানে হাজার হাজার ভারতীয়কে হত্যা করেন তৈমুর।

অনেকে আবার ‘তৈমুর’ নামের সঙ্গে ‘ওসামা বিন লাদেন’ ও পাকিস্তানি মিসাইলকে তুলনা করে তাচ্ছিল্য করেছে টুইটারে। এছাড়াও পাকিস্তানের একটি মিসাইলের নাম ‘তৈমুর’। কারও মন্তব্য ছিল- নবজাতকের নাম ভারতে ‘তৈমুর’, আমেরিকায় ‘ওসামা বিন লাদেন’ আর ইউরোপে ‘হিটলার’ রাখা একই কথা!

তবে সাইফিনার পক্ষেও বলেছেন কেউ কেউ। ওই দম্পতির পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচনাকারীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন বলিউডের প্রবীন অভিনেতা ঋষি কাপুর। একাধিক টুইটে সমালোচনাকারীদের নিজের বিষয় নিয়ে ভাবতে বলেন।

এক টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘মা-বাবা তাদের সন্তানের কী নাম রাখছে তা নিয়ে মানুষের এতো মাথা ব্যথা কেন? আপনারা নিজের চরকায় তেল দেন। এতে আপনাদের কিছুই যায় আসে না। বাবা-মায়ের ইচ্ছা।’
সূত্র: মুম্বাই মিরর

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য