সহযোগিতার মনোভাব দেখালে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন নিউ ইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প।

শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার উপর নতুন করে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ‘অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য’ বহাল থাকবে। কিন্তু তারপর সেটা ‘তুলে নেওয়া হতে পারে’।

‘এক চীন নীতি’ নিয়েও নতুন করে আলোচনা হবে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যদি মস্কো ইসলামপন্থি জঙ্গিদের নির্মূলে এবং অন্যান্য বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করে তবে রাশিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে।

“যদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান থাকে এবং রাশিয়া সত্যিই আমাদের সাহায্য করে, যদি কেউ সত্যিই চমৎকার কাজ করে তবে কেন কেউ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে?”

তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, “আমি জানি তারা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করবে, এটা অবশ্যই আমার জন্যও দারুণ কিছু।”

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলার অভিযোগ উঠার পর ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসন নতুন করে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সাক্ষাৎকারে চীন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, বেইজিং যদি তাদের মুদ্রা ও বানিজ্য নীতির পরিবর্তন না করে তবে তিনি ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না।

চীনের এক চীন নীতিতে তাইওয়ানকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা না করে একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৮ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভ করার পর ফোনে তাকে শুভেচ্ছা জানান তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি চীন।

পরে ‘ফক্স নিউজ সানডে’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র এক চীন নীতি মানতে বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। যা নিয়ে চীন ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে এবং এ কারণে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যে সম্পর্ক গড়ে উঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সেটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করে।

নির্বাচনে জয়লাভ করার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি চীনকে মুদ্রার অবমূল্যায়নকারী দেশ বলে ঘোষণা করবেন।

তবে শুক্রবারের সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই তিনি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না।

“আমি প্রথমে তাদের সঙ্গে কথা বলবো।”

“নিশ্চিতভাবেই তারা অবমূল্যায়নকারী। তবে এখনই আমি সেটা করতে যাচ্ছি না।”

যদিও এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও চীনের মুদ্রানীতি নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতে ছাড়েননি ট্রাম্প।

তিনি বলেন, “‘আমরা আমাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছি’ এটা বলার পরিবর্তে তারা বলেছে, ‘ওহ, আমাদের মুদ্রার দাম পড়ে যাচ্ছে’। তাদের মুদ্রার দাম পড়ছে না। তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করছে।”

“আমাদের কোম্পানিগুলো এখন তাদের কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছে না কারণ আমাদের মুদ্রা শক্তিশালী এবং এটা আমাদের হত্যা করছে।”

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চীন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য