সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার সামনে রেলগাড়িতে চোরা পথে আসা ভারতীয় মালামালের পোটলা নিয়ে কালোবাজারীদের হুড়োহুড়ি। চোরা পথে আসা অবৈধভাবে ভারতীয় জিরাসহ অন্যান্য ভারতীয় পণ্যের ব্যবসা কোন মতে বন্ধ করা যাচ্ছে না। চোরাচালানীদের প্রকাশ্যে এ অবৈধ ব্যবসার ফলে এখন সৈয়দপুরের মনোহারি পট্টির মসলাপট্টির বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব জিরা। কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করতে পারছে না বলে চোরাকারবারীরা হয়েছে আরো বেপরোয়া।

দীর্ঘদিন থেকে এগুলো চলে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কোন অভিযান। সরেজমিনে দেখা গেলো সৈয়দপুর রেল স্টেশনে আগে থেকেই সারি সারি ভ্যান লাগানো। ট্রেন থামতেই হিজড়াসহ অন্যান্য চোরাকারবারীরা প্রকাশ্যে জিরা,শাড়ি,কসমেটিক্সসহ অন্যান্য ভারতীয় পণ্য লোড করছে ওইসব ভ্যানে আবার কেউ দলবেধে হেটে যাচ্ছে মসলাপট্টি মোকামে অথচ সামনেই জিআরপি থানা কার্যালয়।

এ অবৈধ কারবারীদের মধ্যে হিজড়াদের দাপট থাকলেও এর সাথে শিশু, যুবক-যুবতীসহ বেশির ভাগ মহিলারা জড়িত। চোরাকারবারীরা হিলি সিমান্তে নেমে ওপার থেকে জিরা, মসলা, চিনি, কাপড়সহ নানা রকমের মাদকদ্রব্য নিয়ে আসে এবং পুরো ট্রেনে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়ায়। তাদের দাপট এতটাই বেশী যে যাত্রীরা প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। সৈয়দপুর রেলপথে চলাচলকারী রূপসা-সীমান্ত, তিতুমীর, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, খুলনা মেইল ট্রেনগুলোকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে চোরাকারবারীরা।

হিলি সীমান্তে উঠানো এসব জিরাসহ অন্যান্য অবৈধ ভারতীয় দ্রব্য প্রতিদিন সৈয়দপুর রেল স্টেশনে নেমে সোজা চলে যায় মসলাপট্টির বিভিন্ন মহাজনের কাছে। এভাবে প্রতিদিন দেশীয় বাজারে অবৈধ পন্যের সমাহার যেমন বাড়ছে তেমনি রাষ্ট্র হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হিলি হয়ে সৈয়দপুর পর্যন্ত আসা ট্রেনগুলো যেনো হিজড়াসহ চোরাকারবারীদের নিজস্ব ঘর।

পুরো ট্রেনে এদের এমনই দাপট যে আপনার সিটের নিচেই জোর করে রাখছে অবৈধ সব পন্য আর প্রতিবাদ করলেই দলবেধে তেড়ে আসে তারা। এক একজন মহিলা তার কোমরে এমন ভাবে জিরা বেধে রাখে দেখে মনে হবে মহিলাটি কয়েক মাসের গর্ভবতী। ট্রেনে দায়িত্বরত পুলিশ,টিটি,এ্যাটেনডেন্ট যেনো এ চোরকারবারীদের সহযোগী তাই প্রতিবাদকারী যাত্রীদের মাঝে মাঝে উল্টো ধমক খেতে হয় এসব সহযোগী সরকারী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। তাদের নিয়োজিত দালালদের দ্বারা নিয়মিত বকশিস আদায় নিত্যদিনের চিত্র বলে চোরকারবারীরা প্রকাশে যাত্রীদের দাপট দেখায়।

মাঝে মাঝে চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হলেও দুইদিন পর আবার আগের চেহরায় শুরু হয় অবৈধ জিরাসহ মাদকের ব্যবসা। চোরাকারবারীদের সাথে বিভিন্ন মহলের ভাল সম্পর্ক বলে তাদের এ অবৈধ ব্যবসা সহজে বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে চোরাপথে কারবারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে এদের দাপট। তাই চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে ও এদের মহাজনদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো জরুরী মনে করে সচেতন মহল।

কারন ভারতীয় এ সকল অবৈধ ব্যবসার ফলে দেশীয় পণ্যের বাজার যেমন মার খাচ্ছে ঠিক তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় পণ্য, সাথে রাষ্ট্র হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। উল্লেখ্য সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার সামনে এসকল অবৈধ পণ্যের কারবার প্রতিদিন চলে আসলেও অজ্ঞাত কারণে রেলওয়ে থানার ওসি পালন করছে নিরব ভূমিকা। অথচ এগুলো দমনে তারই ওপর দায়িত্ব বর্তায়। এ সকল অবৈধ পণ্য প্রতিদিন রেলওয়ে থানার সামন দিয়ে আনা নেয়া হলেও কি কারণে তিনি তাদের গ্রেফতার করছেন না এটা রহস্যজনক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য