ওয়েব ডেক্সঃ দিনাজপুরের খানসামা ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করনের দাবীতে খানসামা ডিগ্রি কলেজ জাতীয় করন বাস্তবায়ন কমিটি ডাকা হরতাল চলাকালে জনতা- পুলিশ সংর্ঘষের ঘটনায় ৭২৮ জনকে আসামী করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় সোমবার ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপরদিকে রবিবারের অর্ধদিবস হরতাল শেষে মানুষের বাড়ী ভাংচুর, শিশু ও নারীদের উপর নির্যাতন ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার (৯ জানুয়ারি) শান্তিপূর্ণ ভাবে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে।

খানসামা ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করনের দাবীতে খানসামা ডিগ্রি কলেজ জাতীয় করন বাস্তবায়ন কমিটি রোবাবার অধর্  দিবস হরতাল আহবান করে। হরতাল চলাকালে  সংর্ঘসে পুলিশের এক এ এস আই এবং ৪ পুলিশসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এই ঘটনায় রোবাবার গভীর রাতে পুলিশ খানসামা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা দায়ের করে।

এর মধ্যে একটি মামলা দাযের করেন খানসামা থানার এস আই দুলাল উদ্দিন। মামলা নং ২ তারিখ ০৮.০১.২০১৭ ইং। বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় জনৈক আতাউর রহমানসহ ৪১ জনের নাম দিয়ে আরো অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এই মামলায় ৫ জনকে গ্রেফতার করে কোটে চালান দেয়া হয়েছে।

অপর মামলাটি দায়ের করেন এস আই তৌহিদুল ইসলাম । মামলা নং ০৩ তারিখ ০৮.০১,২০১৭ ইং। বে আইনী জনতা দলবদ্ধ হয়ে মারপিট দাঙ্গা,হামলা জালাও পড়াও আইনে দায়ের করা মামলায় জনৈক আবুল কালাম আজাদসহ ৩৭ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরো ৬ শ জনকে আসামী করা হয়েছে।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মতিন প্রধান জানান, এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রবিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৭১জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

অপরদিকে রবিবারের অর্ধদিবস হরতাল শেষে মানুষের বাড়ী ভাংচুর, শিশু ও নারীদের উপর নির্যাতন ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার শান্তিপূর্ণ ভাবে অর্ধদিবস হরতাল পালন করেছে কানসামা বাসী।  রবিবার রাতে এই অর্ধদিবস হরতাল কর্মসুচী ঘোষণা করে খানসামা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ।

হরতাল চলাকালে কোথাও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের তৎপরতার কারণে রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি পিকেটার। হরতালে খানসামা প্রায় অচল ছিল। সব ধরণের যানচলাচল বন্ধ ছিল। খোলেনি কোন দোকানপাট। রাজপথে পুলিশ ছাড়া সাধারণ মানুষ দেখা যায়নি।

খানসামা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নাজমুল হাসান রিয়াদ জানান, খানসামাবাসীর প্রাণের দাবী খানসামা ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করনের দাবীতে রোববার অর্ধদিবস হরতাল আহ্বান করে খানসামা ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করন বাস্তবায়ন কমিটি। শান্তিপুর্ণ হরতাল শেষে বিনা উস্কানীতে পুলিশ স্থানীয় জনতার উপর রাবার বুলেট, টিয়ার সেল নিক্ষেপসহ হামলা চালায়। এরপর পুলিশ দলবদ্ধ হয়ে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভাংচুর চালায়। এ সময় পুলিশ শিশু ও নারীদের উপর নির্যাতন ও গণগ্রেফতার করে।

তিনি অবিলম্বে আটক রাকেশ গুহ, রফিকুল ইসলাম, আব্দুর লতিফ, সালজার রহমান, আতাউর রহমান, ইমরান ইসলাম, শফিক আহমেদ পরাগ, বিপ্লব চৌধুরীসহ সকল সংগ্রামী নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মতিন প্রধান জানান, এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রবিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৭১জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের খানসামা ডিগ্রি কলেজ জাতীয় করন বাস্তবায়ন কমিটি ডাকে রবিবার অর্ধ দিবস হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটেছে। সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য